খাকি পোশাকে ফের কলঙ্কের দাগ! মানুষের হাতে ধরা পড়া এক চোরকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল গুয়াহাটি রেল স্টেশনের এক RPF আধিকারিকের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে,
অভিযুক্ত আধিকারিকের নাম লাল জি যাদব। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
অভিযোগ, গুয়াহাটি রেল স্টেশনে ঘুমন্ত অবস্থায় দীপক কুমার নামে এক ব্যক্তির পকেট থেকে একটি iPhone এবং একটি Android মোবাইল চুরি হয়ে যায়। অভিযোগকারীর দাবি, চুরি যাওয়া iPhone-টির মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। ঘটনার পর RPF থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে অভিযোগ, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
এরপর নিজেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন দীপক কুমার। অভিযোগ, চুরি করা মোবাইল নিয়ে পরিচয় গোপন করতে ওই ব্যক্তি নিজের চুলও কামিয়ে ফেলেছিলেন। পরে বন্ধুর সাহায্যে গুয়াহাটি রেল স্টেশনের ২ নম্বর গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন দীপক কুমার। এরপর তাঁকে RPF থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীপক কুমারের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ওই ব্যক্তি মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করেন। কিন্তু এরপরই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগকারীর দাবি, রাতের দিকে RPF আধিকারিক লাল জি যাদব ঘুষ নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেন। পরদিন সকালে থানায় গিয়ে অভিযুক্তকে দেখতে না পেয়ে হতবাক হয়ে যান দীপক কুমার। এরপর লাল জি যাদবের কাছে অভিযুক্ত কোথায় জানতে চান তিনি। অভিযোগ, তখন ওই আধিকারিকই জানান যে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
CCTV ফুটেজ-সহ একাধিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপক কুমার। অভিযোগ, এই প্রশ্ন করতেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে বিহারে পালিয়ে যেতে বলা হয় এবং তা না করলে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
এরপর আতঙ্কিত হয়ে রেল পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দীপক কুমার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। ঘুষ নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ কতটা সত্যি, CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেই তা স্পষ্ট হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।