কলকাতা: তৃণমূলের দলীয় নাম ও চিরপরিচিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার পর শুক্রবার নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করা হয়েছে দুই শিবিরের জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্য দিকে অরূপ রায়–ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ (Envelope) প্রতীক।
কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই তৈরি হয়েছে নতুন জট। কারণ, খাম প্রতীকটি ইতিমধ্যেই আইএসএফের ব্যবহৃত প্রতীক। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে একই প্রতীক নিয়ে দুই দলের প্রার্থী থাকলে কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে আইএসএফের এক প্রার্থী ইতিমধ্যেই এই প্রতীক বরাদ্দের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
নাম বদলেছে, বদলেছে প্রতীকও
বৃহস্পতিবারই কমিশন জানিয়েছিল, আপাতত দুই গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দলীয় মালিকানা ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দাবির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে। শুক্রবার সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক পরিচয় নির্ধারণ করা হয়। মমতা শিবিরের নতুন পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়েছে। অন্য দিকে বিদ্রোহী শিবিরের নাম হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’।
কিন্তু ‘খাম’ নিয়েই যত গোলমাল
অরূপ রায় শিবিরকে যে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই বর্তমানে আইএসএফের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একই বিধানসভা উপনির্বাচনে দুই প্রার্থীর জন্য একই প্রতীক কী ভাবে বরাদ্দ করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন সামনে থাকায় সময়ও কম। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। তার আগেই কমিশনকে এই প্রতীক-সংক্রান্ত জট মেটাতে হবে। অর্থাৎ, আপাতত ‘খাম’ প্রতীক পাওয়া গেলেও সেটি নিয়ে আইএসএফের আপত্তির পর পরিস্থিতি চূড়ান্ত নয়। কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষকে কী ভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রাখা হবে, নাকি কোনও এক পক্ষকে বিকল্প প্রতীক দেওয়া হবে।
নওশাদের ‘খাম’ কি হাতছাড়া?
এই মুহূর্তে সরাসরি বলা যাচ্ছে না যে নওশাদ সিদ্দিকির দল স্থায়ী ভাবে ‘খাম’ প্রতীক হারিয়েছে। কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই বিষয়টি পরিষ্কার করবে। এখন যা নিশ্চিত, তা হল—ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে ওই প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আইএসএফ তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে।
ফলে তৃণমূলের জোড়াফুল ফ্রিজ হওয়ার পর যে নতুন প্রতীক-রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার প্রথম বড় জট তৈরি হল ‘খাম’কে ঘিরে। এক দিকে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক-সংকট, অন্য দিকে আগে থেকেই সেই প্রতীকে লড়া আইএসএফ—উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন নতুন প্রতীক-সমীকরণ।