বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডার বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে জমেছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাধিক পরিচিত মুখের উপস্থিতি। সেই অনুষ্ঠানেই আচমকা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন অভিনেতা তথা শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। মজার ছলে কথোপকথনের মাঝেই তিনি জানিয়ে দেন, চলতি বছরের মধ্যেই বিয়ে করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টার পরিবেশের মধ্যেই শঙ্কুদেব পণ্ডা রুদ্রনীল ঘোষকে উদ্দেশ করে বলেন, "তুমি বলো, তুমি বিয়ে করতে চাও।" এরপরই রুদ্রনীল হাসতে হাসতে জানান, তিনি এ বছরই বিয়ে করতে চান। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সকলেই হাসিতে ফেটে পড়েন এবং মুহূর্তেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পাত্রী কে? তবে সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি রুদ্রনীল। বরং নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ভঙ্গিতে বলেন, "কেউ না কেউ কোনও স্টেশনে ট্রেন মিস করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।" তাঁর এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। পরে কেউ জানতে চান, পাত্রী কি হাওড়ার? তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শঙ্কুদেব পণ্ডা মজা করে বলেন, "শালিমারের।" রুদ্রনীলও হাসতে হাসতে যোগ করেন, "শান্তিপুরেরও হতে পারে।" তবে পুরো বিষয়টিই যে রসিকতার আবহে বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট ছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এবং শঙ্কর ঘোষও রুদ্রনীলকে দ্রুত বিয়ে করার পরামর্শ দেন। জবাবে গঙ্গার বুকে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই রুদ্রনীল আবারও জানান, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী সম্পর্কে তিনি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি।
অভিনয়ের জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রুদ্রনীল ঘোষ পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। একসময় বাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তীকালে সেই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি শিবপুর বিধানসভার বিধায়ক এবং রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের একজন। বিধায়ক হিসেবে বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়েও তিনি নিয়মিত সরব হন।
শঙ্কুদেব পণ্ডার বিয়ের অনুষ্ঠানে রুদ্রনীলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর বিয়ে নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি এখনও পাত্রী বা বিয়ের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করেননি। তবে এ বছরের মধ্যেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।




