মেদিনীপুর, রেশমি ব্যানার্জি: যাদবপুরের আঁচ এবার মেদিনীপুরে। বিপ্লবের মাটিতে ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা। এবিভিপি এবং এসএফআই সমর্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত এসএফআই এর মিছিলকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার কলেজ টাইমে যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে এসএফআই সমর্থিত ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়। আর এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে বাধে তুলকালাম কান্ড।
মেদিনীপুর কলেজে সংঘর্ষে জড়াল এসএফআই ও এবিভিপির ছাত্রছাত্রীরা। কলেজ ক্যাম্পাসে হাতা-হাতিতে জড়ায় দুই পক্ষ। এসএফআই-এর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ এবিভিপি-র বিরুদ্ধে, যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার বিপক্ষ দলের ছাত্র-ছাত্রীদের।
অভিযোগ, যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর নাগাদ মেদিনীপুর অটোনোমাস কলেজে ক্যাম্পেনিং করে। অভিযোগ তখন তাদের কাছে আসেন এভিবিপি সমর্থিত বেশ কিছু বহিরাগত। তারা কেন কলেজে ঢুকেছে, তা নিয়ে বলার পরেই শুরু হয় বচসা। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। তারপর বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এসএফআই এর একাধিক সমর্থক জখম বলে দাবি। কলেজে বিকেল পর্যন্ত ছিল চরম উত্তেজনা। সামাল দিতে এসে আক্রান্ত হতে হল এক অধ্যাপককেও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ।
এ বিষয়ে এবিভিপি-র নেতা সৌম্যদীপ বেরা বলেন, 'এই বামপন্থী নকশাল ছাত্রসংগঠন। যারা মেদিনীপুর অটোনোমাস কলেজের ভিতরে ঢুকে ক্যাম্পাসের মধ্যে বিভিন্ন রকম অ্যান্টিন্যাশনাল স্লোগান, ভারত মাতার বিরুদ্ধে এবং ছাত্রহিতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম স্লোগানিং করে। তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে।
যদিও এসএফআই এর অভিযোগ, বহিরাগত ছেলেমেয়েরা কলেজে এসে মারধর শুরু করে। সৌম্যদীপের সাফ বক্তব্য, বহিরাগত না। 'আমরা বারবার বলছি আমরা মেদিনীপুরের ছেলে। আমি বিদ্যার্থী পরিষদের জেলার কনভেনার আছি এখনও। আমি মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ। আমার দায়িত্ব এখানে ভাইদেরকে রক্ষা করা। এরা তো মার খেতে পারে না'।
আক্রান্ত এসএফআই সদস্য বলেন, 'বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটিতে পড়ে একজন সৌম্যদীপ বেরা, আমরা তাঁকে চিহ্নিতকরণ করতে পেরেছি। সে ছাড়াও আরও ৩-৪ জন বহিরাগত ছিল। তারা এসে আমাদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায়'। স্বাভাবিকভাবে যাদবপুরের রেশ কাটতে না কাটতে মেদিনীপুরের প্রাচীন এই কলেজে এমন সংঘর্ষে ঘিরে রাজ্যরাজনীতিতে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।