অসম, নিউজ ডেস্ক: ওরা অবলা জীব। আর তাই তারা কথা বলতে পারে না বলেই তাদের বিপদ সম্পর্কে বিশেষভাবে নজর রাখতে হয় মানুষকেই। যাতে কোনরকম বিপদে পড়ে তাদের কোনরকম ক্ষতি না হয়। যেমনটা ঘটেছে অসমে। সেখানে একটি হাতিকে বিপদের মুখ থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন বনবিভাগ কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন ভাইরাল এই ভিডিয়োটি। এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল দুনিয়ায় যথেষ্টই উদ্বেগ প্রকাশ দেখা গিয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যাক।
অসমের নুমালিগড়। এখানে একটি হাতি হঠাৎই মারাত্মক বিপদে পড়ে। বিপদের কারণ হিসেবে উঠে আসে একটি ট্রাক্টরের টায়ার। ট্রাক্টরের টায়ারটি কোনক্রমে ওই হাতির গলায় আটকে গিয়েছিল! মুহূর্তে এই মর্মান্তিক দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন নেটাগরিক এবং সাধারণ মানুষ। তৎক্ষণাৎ ওই জায়গায় চলে আসে বনদফতর এবং সিডব্লিউআরসি (CWRC)।
এসেই তারা ওই হাতিটিকে রক্ষা করার জন্য কাজে লেগে পড়ে। কয়েক ঘন্টা ধরে ওই হাতিটিকে বিপদ মুক্ত করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন ওই দুই দফতরের কর্মীরা। হাতিটিকে উদ্ধার করে ওই দুই দফতরের কর্মীরা তাকে তার পালের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন। এই ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ওই কয়েকটি ঘণ্টাতেই সামলে দেওয়া হয়। নেট দুনিয়ায় এই কাজের প্রশংসা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।
এই ঘটনাটি সম্বন্ধে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তার সোশ্যাল মিডিয়া এক্স থেকে জানিয়েছেন মানুষ হোক বা পশু, অসমে কেউই দুর্দশায় থাকবে না।নুমালিগড়ে একটি হাতির গলায় টায়ার আটকে গিয়েছিল। যা তার জীবনের জন্য মারাত্মক বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সেটির গলা থেকে টায়ারটি সরিয়ে তার জীবন বাঁচাই এবং তাকে তার পালের সাথে পুনরায় যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিই।'
ওই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অনলাইনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে থাকে। প্রত্যেকটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাদের নানা রকম কমেন্টের মাধ্যমে দিচ্ছেন উচ্ছ্বাস বার্তা। ওই হাতিটিকে রক্ষা করার জন্য তারা প্রশংসা করেছেন বনদপ্তর এবং সিডব্লিউআরসি-র। এই প্রসঙ্গে নেটাগরিকদের কিছু মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়ে নিয়েছে। এই মন্তব্য গুলির কিছু নিদর্শন দেওয়া হল।
১)'এত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সুন্দর প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।'
২)'এত দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বন বিভাগ এবং সিডব্লিউআরসি-কে ধন্যবাদ। বন্যপ্রাণী উদ্ধার ঠিক এভাবেই করা উচিত।'
৩)'অবশেষে টায়ারটি সরানো দেখে খুব স্বস্তি পেলাম। এতে জড়িত সবাইকে সাধুবাদ।'
৪)'দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এমনই হয়। হাতিটি এখন স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে হাঁটতে পারে।'
৫)'বন্যপ্রাণীর প্রয়োজনে তাদের রক্ষায় মানুষের এগিয়ে আসার এটি একটি চমৎকার উদাহরণ।'
৬)'বন বিভাগ এবং সিডব্লিউআরসি-কে অশেষ শ্রদ্ধা। তাঁরা বিপদটি আঁচ করতে পেরেছিলেন এবং খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিয়েছেন।'
তবে এত কিছু ছাড়িয়েও এই ঘটনায় সবথেকে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে, একটি অবলা জীব কে বাঁচানোর জন্য মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ প্রচেষ্টা।