নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদেশ সফর মানেই কড়া নিরাপত্তা, নজরদারি এবং গোপনীয়তার একাধিক স্তর। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে নিরাপত্তার যে একটি বিষয় সামনে এসেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। দাবি করা হচ্ছে, বিদেশ সফরে গিয়ে নিজের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্রও বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্দেশ্য—পুতিনের শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও তথ্য যেন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে না পৌঁছয়।
এনডিটিভির ১১ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ডেইলি ইত্তেফাক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের সফরের সময় তাঁর দেহরক্ষীরা ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষভাবে সিল করা ব্রিফকেসে রাখেন। পরে সেটি বিমানে করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। অর্থাৎ বিদেশের মাটিতে তাঁর শারীরিক নমুনা পড়ে থাকার সম্ভাবনাও এড়াতে চায় রুশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কেন এত গোপনীয়তা? এর পিছনে মূলত রয়েছে গোয়েন্দা-নিরাপত্তার আশঙ্কা। মানুষের মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক বর্জ্য বিশ্লেষণ করে কখনও কখনও স্বাস্থ্য, রোগ বা শরীরের নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। সেই তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ভারত সফরেই নয়, অতীতেও পুতিনের বিদেশ সফরে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ফ্রান্স এবং ২০১৯ সালে সৌদি আরব সফরের সময়ও তাঁর ব্যবহৃত বর্জ্য রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। রুশ সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভার বক্তব্য উদ্ধৃত করে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৯ সালে পুতিন রাশিয়ার নেতৃত্বে আসার পর থেকেই বিদেশ সফরে এই ধরনের সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্য শুধু শারীরিক বর্জ্য নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বিদেশ সফরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রুশ সংস্থাগুলি খাবার, যাতায়াত এবং যোগাযোগ,প্রতিটি ক্ষেত্রেই অত্যন্ত কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তাঁর খাবার পরিবেশনের আগে উপাদান পরীক্ষা করার কথাও উঠে এসেছে।
বিদেশ সফরের সময় পুতিনের জন্য বিশেষ সুরক্ষিত গাড়ি এবং বিমান ব্যবহারের কথাও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত বিশেষ বিমানগুলিতে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উন্নত সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানা যায়।
সব মিলিয়ে, পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কঠোর, সেই ছবিই ফের সামনে এসেছে এই অদ্ভুত তথ্যের মাধ্যমে। তবে তাঁর ব্যবহৃত বর্জ্য বিদেশে না রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের বেশিরভাগই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সূত্রনির্ভর দাবি, রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা নেই।