নিউজ ডেস্ক: আরশোলার দুধ-অবাক কাণ্ড! একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় জানা গেছিল 'আরশোলার দুধে নাকি গরুর দুধের থেকেও বেশি পুষ্টি রয়েছে!' প্রায় দশবছর আগে এই অদ্ভুত আবিষ্কার হয়েছিল। এই তথ্য আবিষ্কারের পরেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।আবার সেই গবেষণা ২০২৬ সালে পেল 'আইজি নোবেল পুরস্কার।'
কিন্তু, কী বলা আছে এই গবেষণায়? আসুন, জানা যাক। প্রায় দশ বছর আগে এই বিশেষ প্রজাতির আরশোলা সম্বন্ধে গবেষণা করেন ভারত, ফ্রান্স, জাপান এবং আমেরিকার বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় আরও বলা হয়, 'গর্ভে থাকা অবস্থায় ভ্রূণের পুষ্টির জন্য আরশোলা দুধের মতো এক ধরনের পদার্থ নিঃসরণ করে।
সেই পদার্থ ভ্রূণের শরীরের ভিতরে গিয়ে পুষ্টিগুণে ভরপুর প্রোটিন ক্রিস্টাল তৈরি করে। ওই ক্রিস্টালের মধ্যেই পুষ্টিকর উপাদান সঞ্চিত থাকে।' বিজ্ঞানীদের তথ্য বলছে, 'একটি ক্রিস্টালে সমপরিমাণ গরুর দুধের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি পুষ্টিগুণ থাকতে পারে।'
এই আরশোলা কোনও সাধারণ আরশোলা নয়। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম 'প্যাসিফিক বিটল ককরোচ।' এই প্রজাতির আরশোলার শরীরেই তৈরি হয় দুধ। অন্যান্য প্রজাতির আরশোলা ডিম পাড়লেও, এই প্রজাতি শাবক জন্ম দেয়। তবে,এই দুধ মানুষের খাদ্য নয়। ২০২৬ সালে সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে আয়োজিত আইজি নোবেল অনুষ্ঠানে ওই বিজ্ঞানীদের সম্মান দেওয়া হয়। সম্মান লাভ করেন গবেষক রামস্বামী সুব্রহ্মণ্যম, লিওনার্ড (লিও) চাভাস এবং নাথান কাউসেন্স।
জেনে রাখা ভালো, আইজি নোবেল অন্যান্য সম্মানের তুলনায় অদ্ভুত। তার কারণ, এই এই সম্মান সেই গবেষণাকেই দেওয়া হয়, যেখানে প্রথমে মানুষকে হাসে,মজা পায় বা অবাক হয়। তবে, এরপর ভাবতে শুরু করে। ‘আরশোলার দুধ’ সংক্রান্ত গবেষণাটি তার আদর্শ উদাহরণ।
এই বিষয়টি অদ্ভুত ঠিকই, কিন্তু নেপথ্যে রয়েছে জটিল স্ট্রাকচারাল বায়োগ্রাফি। প্রসঙ্গত, এর আগেও কেমিস্ট্রি বিভাগে একাধিক অভিনব গবেষণায় আইজি নোবেল পান একাধিক বিজ্ঞানী। ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের গবেষকরা 'টেফলন ডায়েট' সংক্রান্ত গবেষণাতে এই পুরস্কার লাভ করেন। যেটি ক্যালোরিবিহীন ফিলার ব্যবহারের ধারণা দিয়েছিল।