গ্যাংটক: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিমের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের একাধিক পাহাড়ি এলাকাতেও লাগাতার ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও পাহাড়ের মাটি নেমে এসে রাস্তা আটকে দিয়েছে, কোথাও আবার কাদা-পাথরের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়ি ও গাড়ি। এর মধ্যেই সিকিম ও শিলিগুড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ফের অবরুদ্ধ হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকরা।
বুধবার থেকে উত্তর সিকিমে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। শুক্রবার ভোরে বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ভূমিধসের জেরে জাতীয় সড়ক ১০-এর উপর কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। ফলে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ থাকায় পুজোর আগে পর্যটন ব্যবসা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্যাংটক জেলায় পরিস্থিতি আরও জটিল। একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের ফলে রাস্তা বন্ধ হয়েছে। কিছু এলাকায় বাড়িঘর ও গাড়িও ধসের কবলে পড়েছে। শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর খতিয়ে দেখা হয়।
বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা হাইওয়ে, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি-সহ একাধিক এলাকায় ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে। পাংথাং-লিংডক রোড, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক এবং সিচে এলাকাতেও রাস্তা ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর রয়েছে। কিছু এলাকায় বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিচের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং এনচে স্কুলের ৩৩/১১ কেভি সুইচিং স্টেশনের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উত্তর সিকিমেও একাধিক জায়গায় ধস
উত্তর সিকিমের ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকাতেও ভূমিধস হয়েছে। স্থানীয় বিধায়কের নেতৃত্বে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল মাটির ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে বলে কিছু জায়গায় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যাতায়াত না করার পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা বন্ধ হওয়ার খবর রয়েছে।
নেপাল-ভুটানেও বিপর্যস্ত যোগাযোগ
শুধু সিকিম নয়, ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে নেপাল ও ভুটানেও। নেপালের জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। কাঠমান্ডুগামী দু’দিকের যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। ধাদিং এলাকায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
ভুটানের দোচুলা-ওয়াংদুয়ে পিএনএইচ-এর একটি অংশে একমুখী যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।
পুজোর মরসুম সামনে থাকায় সিকিম, ভুটান ও নেপালের পর্যটন শিল্প নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে পর্যটকদের যাতায়াত এবং বুকিং দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল




