নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে আন্দোলনকারী থেকে নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি সাফ বলেন, 'আগামীকালের মধ্যে আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দিলে অনশন বা পদযাত্রায় নামতে বাধ্য হব'।
শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, 'আগামীকালের মধ্যে আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দিলে অনশন অথবা পদযাত্রায় নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'আন্দোলনের আগে আমি ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কখনও ভাবিনি, বিশ্বের সবথেকে বড় গণতন্ত্রে এভাবে কার্যত জরুরি অবস্থা তৈরি হবে। এত নেতা-নেত্রী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন জেনে আমি খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু জানতে পেরেছি যে তাঁরা আটক হয়েছেন। আশা করি তাঁদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে। না হলে আমি অনশন অথবা পদযাত্রা শুরু করব।'
https://x.com/Wangchuk66/status/2108874426301460544?s=20
চলতি বছর নিট কেলেঙ্কারির পরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ শুরু করে। সেখানে সদ্য ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে শামিল হয়ে অনশন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাসের পর অনশন প্রত্যাহার করেন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। এরই মধ্যে আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে চলা আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন সোনম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এদিন সকাল থেকেই দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বাম নেতৃত্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সুজন ও মীনাক্ষীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এই কর্মসূচিতে সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বর্ষীয়ান নেত্রী বৃন্দা কারাত-সহ একাধিক বাম নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
