স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে একে অপরকে ইঙ্গিত করায়, বিতর্ক সৃষ্টির হয়েছিল। বিতর্কের বিষয় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা! ঘটনাস্থল ইন্দিরা ভবন', ৯/এ কোটলা রোড, নয়া দিল্লি।অর্থাৎ, কংগ্রেসের সদল দফতর। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জতা’র অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন।
চিতোরগড়ে এক জনসভায় তিনি বলেন, 'তাদের (কংগ্রেসের) নির্লজ্জতা দেখুন। কংগ্রেস দলের সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী দলের সভাপতিকে গানটি থামানোর ইঙ্গিত দেন।' অমিত শাহ আরও যোগ করেন, 'আমরা সবাই টিভিতে তা দেখছিলাম... সোনিয়া জি, ১৪০ কোটি মানুষ আপনাকে দেখছে। আপনি যে পাপ করেছেন, তা এ দেশের মানুষ কখনোই ক্ষমা করবে না। ‘বন্দে মাতরম’ গানটি অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ার কথা কেউ কীভাবে ভাবতেও পারে? কংগ্রেসের লোকজনের লজ্জা হওয়া উচিত...' প্রসঙ্গত, সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে একে অন্যকে যে ইশারা করেছিলেন, তা সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
শাহ- র দাবি, 'যদি বিন্দুমাত্র লজ্জা অবশিষ্ট থাকে, তবে আপনাদের উচিত হাত জোড় করে বঙ্কিম বাবুর অমর আত্মা ও জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া।' বিজেপি নেতারা এই ঘটনার ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেছেন যে,এই আচরণ জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করে অভিযোগ করে বলেন, 'তিনি ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তিনি দাবি করেন, গানের শুরুর কয়েকটি স্তবক গাওয়ার পরই গান্ধী উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং গানটি থামানোর নির্দেশ দেন।' মালব্য দাবি করেন, 'রাহুল গান্ধীও ইঙ্গিত করেছিলেন যে গানটি শেষ করে দেওয়া উচিত।' তবে কংগ্রেস পরিষ্কার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানায় যে, সোনিয়া গান্ধীর আচরণের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত থামানোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি কেবল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন যে অনুষ্ঠানে গানটি গাওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শাহ এই বিতর্ককে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর অভিযোগ 'দলটি ভোট-ব্যাঙ্ক রাজনীতির কারণে বন্দে মাতরম-কে ভুলে গেছে'। তিনি বলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তিনি সেই কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, 'এই গান গাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ গুলি, লাঠিচার্জ ও কারাবরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন।' চিতোরগড়ে আয়োজিত ‘অটল গৌরব স্মৃতি সমারোহ’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেখানেই প্রসঙ্গান্তরে এই বিতর্কের কথা উঠে আসে।