নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার পর পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ বড় সংশোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ন্যূনতম তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আনা হতে পারে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অনুমোদন মিললে তা সংসদে পেশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, এটি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। গত আড়াই মাসে এই ধরনের ঘটনায় একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষাবর্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়েও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সংশোধিত আইনে ব্যক্তিগত অভিযুক্তদের পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পাঁচ থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। যদিও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেছেন, তবুও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
শুক্রবার দুপুরে কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং উপস্থিত থাকতে পারেন।
সরকারের একদিকে কঠোর আইন আনার উদ্যোগ এবং অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া, এই দুই পদক্ষেপে নিট বিতর্কের দ্রুত সমাধান খুঁজতে চাইছে কেন্দ্র। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন।