রাজ্যের পঞ্চায়েত গুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। পঞ্চায়েত দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তথা এসওপি। যেখানে কর সংগ্রহ থেকে শুরু করে বকেয়া আদায় এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির বিস্তারিত তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে।
নয়া যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সেই অনুসারে, কর জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ঘোষণার পর তিন সপ্তাহের মধ্যেই কর সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। করদাতাদের সুবিধার জন্য অফলাইনেও কর সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে সময় করের জন্য ধার্য করা হবে সেই সময়ের মধ্যে কর না দিলে বকেয়াদারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৫ দিনের মধ্যে কর পরিষদ না হলে পঞ্চায়েত বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কর আদায়ের পাশাপাশি পঞ্চায়েত গুলিতে বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। এর জন্য বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেমন, টোল আদায়যোগ্য রাস্তা, সেতু ও ফেরিঘাট চিহ্নিত করা, পর্যটন ও হোমস্টে প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য পঞ্চায়েতে নিজস্ব কমিউনিটি হল তৈরি, ফেরিঘাট, ম্যারেজ হল। বিজ্ঞাপন ও হোডিংয়ের জন্য বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা সহ আরো বেশ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত গুলি যাতে ভালোভাবে পরিচালিত হয় সেই কারণেই এই উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে একটি বাড়ি থেকে প্রতিবছর গড়ে ২৩৩ টাকা আয় করে পঞ্চায়েত গুলি। সেই আয় বৃদ্ধি করে বাড়ি কিছু বছরে ১২০০ টাকা করার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ। এই অর্থবর্ষে ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রায় ২৫২১ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্রান্ট মিলবে। তার অন্যতম শর্ত হল পঞ্চায়েত গুলির নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হবে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পর্যালোচনায় দেখা যায়, বহু জায়গায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও কর সংগ্রহে ক্ষেত্রে শীতলতা রয়েছে। এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতেই এই এসওপি কার্যকর করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এবার রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি শুরু হচ্ছে।
নতুন এই ব্যবস্থায় মধ্যে দিয়ে কর আদায় যেমন বাড়বে তেমনি পঞ্চায়েতের নিজস্ব অর্থে গ্রামীণ উন্নয়নে গতি আসবে। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও পরিবর্তন হবে এমনটাই আশা রাখছে প্রশাসন।