নিউজ ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে তুমুল উত্তেজনা। আন্দোলনে যোগ দিতেই যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথেই বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। এবার তাঁদের মুক্তি দিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন জরুরি ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে আইনজীবীদের আটকের বিষয়টি জানায়। এরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আটক আইনজীবীদের মুক্তির কথা জানান প্রধান বিচারপতি।
জানা গিয়েছে, আটক আইনজীবীদের দিল্লির যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মহিলা আইনজীবীরাও ছিলেন। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এদিন সকালে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে SCBA। সেখানে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী দেবব্রতও বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানান। দেবব্রত নিশ্চিত করেছেন, আটক আইনজীবীদের মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। শীঘ্রই আইনজীবীদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয় এবং যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আন্দোলন চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে যান আইনজীবীরা। এরপরই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ, টেনে বাসে তোলার চেষ্টা হয় আইনজীবীদের। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো বচসা শুরু হয়ে যায়। এরপর আইনজীবীদের আটক করায় প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। তারপরেই আইনজীবীদের ছেড়ে দিতে বলেন সূর্য কান্ত।
শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বাম নেতৃত্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সুজন ও মীনাক্ষীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এই কর্মসূচিতে সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বর্ষীয়ান নেত্রী বৃন্দা কারাত-সহ একাধিক বাম নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
