নিট-সংক্রান্ত দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় গ্রেফতার বা আটক হওয়া বিক্ষোভকারীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, যেসব নাবালক বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের আর আটক বা হেফাজতে রাখা যাবে না। অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত না করে তদন্তের উদ্দেশ্য সফল হতে পারে না। তাই আন্দোলনের সময় যে পক্ষই আইন ভঙ্গ করে থাকুক না কেন, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আদালত স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে থেকে প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকেও সংবেদনশীল হতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনের সময়কার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও এবং পুলিশ কর্মীদের বডিক্যামের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে তদন্তে কোনও তথ্য নষ্ট না হয়। পাশাপাশি আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানির সময় আদালতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও উঠে আসে। এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের সম্ভাবনার কথাও আদালত উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের পাশাপাশি অসম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কেরল সরকারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ে। মঙ্গলবার সেই সব মামলার একত্রে শুনানির পর আদালত এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলির জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।