নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন তাঁর কন্যা মেধা রূপম। নয়ডার জেলাশাসক মেধার বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে নির্দেশ এলাহাবাদ হাই কোর্ট দিয়েছিল, আপাতত সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা NSA-তে আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নয়ডার জেলাশাসক তথা জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা রূপম। এরপর প্রায় পাঁচ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয় আকৃতিকে।
গত ২ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাই কোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে NSA-র নির্দেশ বাতিল করে। সেই মামলার শুনানিতে আদালত মেধা রূপমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকারের বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি মেধা রূপমকে নিজের বেতন থেকে আকৃতিকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মেধা রূপম। বুধবার বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত জানতে চায়, কাউকে আটক করার প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরের আধিকারিক যুক্ত থাকলে শুধুমাত্র জেলাশাসককে আলাদা করে দায়ী করা যায় কি না।
এই প্রশ্নের পরই এলাহাবাদ হাই কোর্টের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত মেধা রূপমকে নিজের বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না।
এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। আদালত প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছিল।
অন্যদিকে, এই মামলার সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের সরাসরি কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন জড়িত নয়। তবে তাঁর কন্যা মেধা রূপমকে ঘিরে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং একই সময়ে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে চলা বিতর্কের কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিকে নজর থাকবে। একইসঙ্গে NSA-তে আটক করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে শীর্ষ আদালতের পরবর্তী অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
