নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পুলিশ নিয়োগে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ১১,৫৯৩ জনের হাতে পুলিশে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪,০০০ পুলিশকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোট ৯,০০০ পুলিশ নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশে নিয়োগের নিয়মে পরিবর্তন এবং শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুলিশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর, যেখানে শুধু লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দক্ষতা বিচার করা যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের কাজের জন্য শারীরিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। তাই ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুলিশ বিভাগে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি ক্লার্ক নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশকর্মী নয়, প্রশাসনিক কাজের জন্যও কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা প্রসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনি প্রক্রিয়ার জট কাটিয়ে নিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে তাঁর সরকার উদ্যোগী হয়েছে। তাঁর কথায়, আদালত সংক্রান্ত জটিলতা কাটানো না গেলে পুজোর আগে এই নিয়োগ সম্ভব হত না। এ ক্ষেত্রে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
পাশাপাশি, অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা এবং ওবিসি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিবরণ ও আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে না আসায় তাঁর বক্তব্যকে সরকারের দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনুপ্রবেশ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশকর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর আশ্বাস দেন।
বাংলার পুলিশকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশের থেকেও বেশি দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য স্থির করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নিয়োগ বৃদ্ধি, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় গুরুত্ব এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তবে ঘোষিত নিয়োগের সময়সীমা ও নতুন নিয়মের বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের।
