নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজার আবহে রাজনৈতিক পারদ ফের চড়ল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে দুর্গাপূজার মণ্ডপে তাঁর নাম উচ্চারণ না করার ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূজার পবিত্র পরিবেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যে ব্যক্তি সনাতন ধর্মকে খাটো করেছেন, মায়ের বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর নাম নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এক পূজামণ্ডপে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, গোটা বাংলায় এখন নিখাদ আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সনাতনী ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ বিরাজ করছে। তিথি-নক্ষত্র ও শাস্ত্রীয় নিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি উল্লেখ করেন, এবার পিতৃপক্ষে কোনো পূজার আনুষ্ঠানিকতা হয়নি, শাস্ত্র ও পঞ্জিকার বিধান কঠোরভাবে মেনে দেবীপক্ষেই সমস্ত আচার পালিত হচ্ছে। গভীর ভক্তি ও নিষ্ঠা নিয়ে রাজ্যবাসী দেবী আরাধনায় মেতেছেন এবং সারা বাংলায় এক অভাবনীয় দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
https://x.com/ANI/status/2109650210620101050?s=20
এর পাশাপাশি পূজার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালে বাংলায় মোট দুর্গাপূজার সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। আর এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪০০-এ।
শুভেন্দু দাবি করেন, এই বছর অতিরিক্ত ১২ হাজার ৪০০টি নতুন পূজাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার ছিল ‘সনাতন-বিরোধী’, যার কারণে অতীতে এই ১২ হাজার ৪০০টি পূজা আয়োজনের অনুমোদন মেলেনি। এই বিপুল সংখ্যার বৃদ্ধিকে বাংলার সনাতনী সমাজের এক বিরাট ‘জাগরণ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি উপস্থিত কার্তিক মহারাজ ও অন্যান্য সাধুসন্তদের নাম উল্লেখ করে জানান, পূজার এই জাগরণ ও সাফল্য আসলে সন্ত সমাজের আশীবার্দেই সম্ভব হয়েছে।
সাংবাদিকদের তরফে মমতার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা হলে মেজাজ চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, "মণ্ডপে ওঁর নাম নেবেন না। যিনি হিন্দু ধর্মকে ‘নোংরা’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন, দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে তাঁর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করা উচিত নয়।"