স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে নতুন ইতিহাস লিখল ১৫ বছরের এক কিশোরী। বয়স মাত্র ১৫, অথচ কোর্টে তার লড়াইয়ের মানসিকতা নজর কাড়ার মতো। যুব অলিম্পিকের মহিলা সিঙ্গলসের ফাইনালে পৌঁছে নজির গড়ল ভারতের তনভি পাত্রি। এই প্রথম যুব অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনে মহিলা সিঙ্গলসের ফাইনালে উঠলেন কোনও ভারতীয়। শুধু তাই নয়, ফাইনালে ওঠার সঙ্গেই এই বিভাগে দেশের প্রথম পদক নিশ্চিত করে ফেলেছে সে। এবার লক্ষ্য সোনার পদক।
বুধবার জাপানের দ্বিতীয় বাছাই ইউজুনো ওয়াতানাবের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তনভি। ৫৪ মিনিটের টানটান সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত ২১-১৪, ১১-২১, ২১-১৯ ব্যবধানে জিতে যান ভারতীয় শাটলার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তনভি। প্রথম গেমে ২১-১৪ ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় গেমে ঘুরে দাঁড়ান জাপানের প্রতিপক্ষ। ১১-২১ ব্যবধানে সেই গেম হেরে ম্যাচে সমতা ফেরান ওয়াতানাবে।
ফলে খেলা গড়ায় নির্ণায়ক তৃতীয় গেমে। সেখানে দুই শাটলারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে হয়েছে দু'জনকেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্নায়ুর চাপ সামলে নেন তনভি। শেষ পর্যন্ত ২১-১৯ ব্যবধানে তৃতীয় গেম জিতে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন তিনি। সঙ্গে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক ফাইনালে ওঠা।
যুব অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনে এর আগে ভারত পদক পেলেও মহিলা সিঙ্গলসের এমন সাফল্য আসেনি। ২০১০ সালে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত প্রথম যুব অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন এইচ এস প্রণয়। ২০১৮ সালে বুয়েনস আইরেসে রানার্স হয়েছিলেন লক্ষ্য সেন। ২০১৪ সালে ছেলেদের সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে উঠেছিলেন আদিত্য যোশী। কিন্তু মহিলা সিঙ্গলসের ফাইনালে ওঠার নজির ছিল না কোনও ভারতীয়ের।
এবার তনভির সামনে সোনার পদকের হাতছানি। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ চিনের ই সিন ঝাং। সম্প্রতি বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছেন তিনি। এর আগে এশীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে ঝাংয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন তনভি। সেই লড়াইয়ে ১৮-২১, ১৬-২১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল তাঁকে। এবার সেই হারের বদলা নিয়ে সোনার পদক জিতে দেশে ফেরাই লক্ষ্য ১৫ বছরের ভারতীয় প্রতিভার।




