স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাঞ্চকর জয় ম্যান সিটির: লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারালেন হালান্ডরা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লীগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচের এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জার্মানির রেড বুল অ্যারেনায় আরবি লাইপজিগকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দু-দুবার সমতায় ফিরেও শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় পেপ গুয়ার্দিওলার ছাত্ররা। এই জয়ের ফলে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল সিটি।
প্রথমার্ধে আত্মঘাতী গোলেই এগিয়ে যায় সিটি। অর্থাৎ ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমিয়ে তোলে। প্রথমার্ধে লাইপজিগ বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। উল্টো ম্যাচের ৩৭ মিনিটে লিড পায় ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির নিকো ও’রেইলির একটি নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন লাইপজিগের ডিফেন্ডার কাস্তেলো লুকেবা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সিটি।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা ও নাটকীয়তা এই ম্যাচটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরে লাইপজিগ। ৪৭ মিনিট ১-১ গোল করে রাইট ব্যাক রিডল বাকু একটি কঠিন কোণ থেকে দারুণ শটে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুমার পরাস্ত করে লাইপজিগকে সমতায় ফেরান। এরপর ৫৮ মিনিটে ২-১।সমতা ফেরার পর সিটি আবার চাপ বাড়ায়। ইলিম্যান এনদিয়ায়ের নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার হেডে সিটিকে আবারও এগিয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৬১ মিনিটে আবারো সমতায় আসে লাইপজিগ । সিটির এই লিড স্থায়ী হয়েছিল মাত্র তিন মিনিট। বদলি খেলোয়াড় ক্রিস্টোফার এনকুনকুর পাস থেকে বল পেয়ে লাইপজিগের আন্তোনিও নুসা কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন।
এইদিন ম্যাচে লইপজিগের কফিনে শেষ পেরেকটি পোতেন নরওয়েজিয়ান তারকা হালান্ড, জয়সূচক গোল করে জয় নিশ্চিত করে সিটি। ম্যাচ যখন ২-২ স্কোরে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই জ্বলে ওঠেন সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বাড়ানো লো-ক্রস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের জয়সূচক গোলটি করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। লাইপজিগের বিপক্ষে এটি হালান্ডের ১৩তম গোল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লাইপজিগ চেষ্টা করলেও সিটির রক্ষণভাগ আর কোনো ভুল করেনি, ফলে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। এই হারের মাধ্যমে ঘরের মাঠে লাইপজিগের টানা ১০ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গেল।




