বিধানসভায় বুধবারের নজিরবিহীন হট্টগোলের পর আচমকাই সুর বদলালেন তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। স্পিকারের নির্দেশ অমান্য করে অধিবেশন কক্ষে বিক্ষোভ দেখানো এবং পরে সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনার জেরে শুক্রবার তিনি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও সাংবাদিকদের সামনে এসে বিজেপি ও সরকার পক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে দেখা যায় তাঁকে।
বিধানসভার প্রেস কর্নারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনা হয়েছে। বুঝতে পারছি আমি ওদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। যদি আমার বিধায়ক পদ খারিজ করতে চায়, করে দিক। পেছনের দরজা দিয়ে কাজটা করার চেষ্টা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিধানসভায় কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কুণালের কথায়, “১৯৯০ সাল থেকে সাংবাদিক হিসেবে বিধানসভায় আসছি। এখন আমিই নাকি সরকার পক্ষের গলার কাঁটা! আমি অধ্যক্ষ বা হাউস—কাউকেই অপমান করিনি। অধ্যক্ষের চেয়ারকে সম্মান জানিয়েই আমি চিঠি দিয়েছি যাতে আমাকে বলতে দেওয়া হয়।”
বিজেপিকে নিশানা করে কুণাল বলেন, "সরকার নির্জীব ও নির্বিষ বিরোধী চাইছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমাদের বেঞ্চটাই আসল বিরোধী। আমরা মানুষের কথা বলছি বলেই এত সমস্যা। ভোটে হারাতে পারেনি, তাই এখন প্রিভিলেজ নোটিস এনে বিধায়ক পদ কাড়তে চাইছে।" পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, মনমোহন সিংয়ের আমলে বিজেপিও সংসদে একাধিকবার অধিবেশন অচল করেছিল।