পুরুলিয়া: জঙ্গলমহল জুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্ৰেপ্তার। পুরুলিয়া রঘুনাথপুর সহ একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূল নেতাদের গ্ৰেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে এসেছে এবার সেই তালিকায় জুড়লো পুরুলিয়ার বরাবাজারের নাম। জমি দখল, তোলাবাজি এবং আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে বরাবাজার ব্লকের তৃণমূলের INTTUC নেতা চন্দন সিংহ মল্লকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে বরাবাজার থানার পুলিশ। আর তারপর থেকেই সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখল, তোলাবাজি এবং আর্থিক তছরূপের অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর সেই তদন্তের ভিত্তিতেই গ্ৰেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত নেতাকে।
শনিবার ধৃতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও চন্দন সিংহ মল্ল কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সমস্ত প্রশ্নকে কার্যতো এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
শুক্রবারে এই গ্ৰেপ্তারির পর এক উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে বড়বাজার ব্লকের বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অভিযুক্ত চন্দন সিং মল্লের বাড়ির সামনে আতশবাজি ফাটিয়ে আনন্দ উল্লাস করেন তারা।
এ বিষয়ে বান্দোয়ান বিধানসভার মন্ডল ২ এর সভাপতি জনার্ধন সিং মদক বলেন, 'যারা যারা দুর্নীতি করেছে তাদের সকলের বিচার হবে। কেউ রেহাই পাবে না। একে একে সকলেই গ্ৰেপ্তার হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।'
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির জেলা মিডিয়া ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ দাবি করেন, 'কোনো তৃণমূল নেতা রেহাই পাবেন না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল করতেন, এখন সেই একইভাবে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের কার্নিভাল শুরু হয়েছে। এখনো কয়েকজন গ্ৰেপ্তার হয়েছেন, আরো অনেকেই বাকি রয়েছেন।'
অন্যদিকে এ-বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি তৃণমূল জেলা নেতৃত্বে পক্ষ থেকে। বরাবাজারের এই গ্রেফতারিকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।