নিউজ ডেস্ক: কলকাতার দুর্গাপুজোর শিল্পসুষমা, মানুষের আন্তরিকতা এবং উৎসবের সামূহিক আবহে মুগ্ধ আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর। সোমবার কলকাতায় ফিরে শহরের কয়েকটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ঘুরে দেখেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে পুজোর শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর কথায়, কলকাতার পুজোর মণ্ডপগুলির অসাধারণ সৃজনশীলতা, মানুষের মিলিত উদ্যোগ এবং আন্তরিক আতিথেয়তা সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার পরেই বুঝতে পেরেছেন, দুর্গাপুজো কেন এত মানুষের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয়।
সোমবার, ১২ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে গোর লেখেন, কলকাতায় ফিরে আসতে পেরে তিনি খুশি। শহরের কয়েকটি সুন্দর পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন। সেখানকার সৃজনশীলতা, সামূহিক উদ্যোগ এবং মানুষের উষ্ণতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এই উৎসব কেন এত বিশেষ, তা তিনি বুঝতে পারছেন বলেও জানান। পাশাপাশি দুর্গাপুজো উদ্যাপন করছেন, এমন সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
মণ্ডপের শিল্পকলা থেকে মানুষের মিলন, নজর কাড়ল পুজোর আবহ
কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক সংহতির এক বৃহত্তর উদ্যাপন। থিমের বৈচিত্র, মণ্ডপসজ্জার অভিনবত্ব, প্রতিমার শিল্পরূপ এবং আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে প্রতি বছরই নিজেদের সৃজনশীলতার পরিচয় দেন শিল্পী ও উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি পুজোকে ঘিরে তৈরি হয় পাড়ার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পরিবেশ।
গোরের বক্তব্যেও সেই দিকগুলিই বিশেষ ভাবে উঠে এসেছে। মণ্ডপের সৌন্দর্যের পাশাপাশি মানুষের আন্তরিকতা এবং একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের বিষয়টি তাঁর নজর কেড়েছে। কলকাতার দুর্গাপুজো যে কেবল বাংলার মানুষের ধর্মীয় আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অংশ, তাঁর মন্তব্যে সেই ইঙ্গিত রয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। ছোট-বড় অসংখ্য মণ্ডপে ফুটে ওঠে শিল্পীদের কল্পনা। কোথাও ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কোথাও আধুনিক শিল্পভাবনা, আবার কোথাও সামাজিক বার্তা—সব মিলিয়ে পুজো হয়ে ওঠে এক বিশাল সাংস্কৃতিক পরিসর। এই বৈচিত্রই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে কলকাতার পুজোকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ভারতে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করছেন গোর। সম্প্রতি শ্রীনগর, লেহ, রাজস্থান এবং অমৃতসরের মতো জায়গায় গিয়েছেন তিনি। অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ এবং দেশভাগের স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহশালাও ঘুরে দেখেছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেই সফরের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ১১টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন গোর। ওই সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় গোরের দুর্গাপুজো পরিদর্শন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভারতীয় সমাজ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি দিক তুলে ধরেছে। যদিও তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নতুন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়নি।
উৎসবের আনন্দে কূটনীতির অন্য ছবি
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের আলোচনায় সাধারণত বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। তার বাইরে সাংস্কৃতিক উৎসবও দুই দেশের মানুষের মধ্যে পরিচিতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
কলকাতার দুর্গাপুজোর মতো বৃহৎ জনউৎসবের আকর্ষণ সেই কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
গোরের বার্তায় রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনার বদলে প্রাধান্য পেয়েছে উৎসবের সৃজনশীলতা, মানুষের আন্তরিকতা এবং একসঙ্গে আনন্দ উদ্যাপনের ছবি। পুজোর মণ্ডপ ঘুরে তাঁর এই অভিজ্ঞতা কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও এক বার সামনে নিয়ে এল।
এ বছর কলকাতায় দুর্গাপুজোর মূল পর্ব শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর থেকে। তার আগেই শহরের মণ্ডপ ঘুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শুভেচ্ছাবার্তা উৎসবের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কলকাতার পুজোর আকর্ষণ শুধু প্রতিমা বা মণ্ডপসজ্জায় নয়—এই উৎসবের প্রাণ রয়েছে মানুষের মিলন, সৃজনশীলতা এবং আন্তরিকতার মধ্যেও।
