রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে নতুন পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। রুশ তেল আমদানির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন সেনেটে পাশ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশের উপর।
জানা গিয়েছে, রাশিয়ার অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মস্কোর উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের সময়ই বিলটি সেনেটে অনুমোদন পেয়েছে।
এর আগে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলির উপর আরও কড়া শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে সংশোধন করে শুল্কের হার কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়েছে।
মার্কিন সেনেটে মঙ্গলবার এই বিলের পক্ষে ৮৬টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ভোট দেন ১২ জন সদস্য। এই বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে বিলটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারত ও চিনের উপর। কারণ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত। সস্তায় রুশ তেল আমদানি করে ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয়। ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে দেশের তেল আমদানি খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরশীল আরও কয়েকটি দেশও এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারে। তালিকায় রয়েছে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসা তেলের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ভারতের মতো দেশগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
আমেরিকার এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। রাশিয়া, ভারত এবং অন্যান্য তেল আমদানিকারী দেশগুলি কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।