নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এক জটিল সামরিক অধ্যায়ের ইতি টানল ওয়াশিংটন। ইরাকের মাটি থেকে নিজেদের সমস্ত সেনাসদস্যকে সম্পূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ কার্যকর করেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কার্যকালেই এই ঐতিহাসিক প্রস্থানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা অবশেষে বাস্তবায়নের রূপ নিল।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন সামরিক ঘাঁটির শূন্যতার চেয়েও বেশি আটকে রয়েছে বাগদাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভবিষ্যতের ওপর। প্রশ্ন উঠেছে,আমেরিকার ছত্রচ্ছায়া সরে যাওয়ার পর ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য আধিপত্য কি রুখতে পারবে ইরাক প্রশাসন?
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত নিয়ে ইরাকের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। সেনা প্রত্যাহারের এই সন্ধিক্ষণে তিনি জাতির উদ্দেশে দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি সরতেই তেহরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো তাদের মজুত অস্ত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতে সমর্পণ করবে। যদিও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে বাস্তবের চেয়ে বেশি আশাবাদী বলে মনে করছেন। কারণ, দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইরাক প্রকৃতপক্ষে পরিণত হয়েছিল আমেরিকা ও ইরানের শক্তির মহড়া ও ছায়াযুদ্ধের এক নীরব রণক্ষেত্রে। দুই প্রভাবশালী দেশের টানাপড়েনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এই সশস্ত্র মিলিশিয়াদের বশে রাখা বাগদাদের জন্য এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষা।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৩ সালে এক বিতর্কিত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাদ্দাম হোসেনের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছিল আমেরিকা। তাদের দাবি ছিল, তৎকালীন শাসকের হাতে বিধ্বংসী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। সাদ্দামকে বন্দি করে ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও, সেই কথিত পরমাণু অস্ত্রের কোনো হদিস মেলেনি। সেই থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মাটিতে স্থায়ী ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।
এদিকে, তেহরানের ছায়াতলে গড়ে ওঠা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর সদস্য, বিশেষ করে এমপিএফ এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের মতো গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশি বাহিনী সরতেই দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
অনেকেই স্মৃতিচারণ করছেন ২০০৩ সালে বন্দি হওয়ার পর মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বলা সাদ্দাম হোসেনের মন্তব্যটি। তিনি বলেছিলেন, “তোমরা ইরাক শাসন করতে পারবে না, কারণ তোমরা ইরাকিদের ভাষা, সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব কিংবা আরবদের ইতিহাস বোঝো না।”
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের পরেও ইরাকের মাটিতে বিভিন্ন আমেরিকান সংস্থা তাদের কার্যক্রম বজায় রাখবে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
