স্পোর্টস ডেস্ক: সম্প্রতি নিজেই জানিয়েছিলেন, আগামী বছর আফ্রিকা মহাদেশ হতে চলা বিশ্বকাপ তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। তাই সেটা জিততে যা দরকার সেটাই করতে তিনি প্রস্তুত। রবি-সন্ধ্যার তিরুবনন্তপুরমে মেন ইন ব্লু-কে ৮ উইকেটের জয় এনে দেওয়ার পথে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) নতুন করে আরও একবার দেখিয়ে দিলেন, কী কী করতে পারেন তিনি। ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এ দিন শতরান হাকিয়েছেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলও। কিন্তু সেই ইনিংসও চাপা পড়ে যাচ্ছে বিরাটের ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের আড়ালে।
ম্যাচ তথা সিরিজ শুরুর আগে একদিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ৫৯ রান দূরে ছিলেন বিরাট। সেই গণ্ডি পেরিয়ে শচীন তেন্ডুলকরের পর বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নজিরও গড়লেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। বরং এ দিন তাঁর আসল লক্ষ্য যেন ছিল ক্রিকেটের বর্তমান মারকাটারি যুগে নিজে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করা। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকেই নিজের স্ট্রাইক রেটে অবিশ্বাস্য বদল এনেছেন কিং কোহলি। আগে যেখানে মূলতঃ সিঙ্গেলস আর ডাবলসেই গড়তেন ইনিংসের ভিত, সেখানে এখন শুরু থেকেই তাঁকে দেখা যায় আগ্রাসী মেজাজে। রবিবারের অবিশ্বাস্য ১৫৭.৯৫ স্ট্রাইক রেটে দেখা গেল সেই অবতারেরই প্রতিফলন।
https://x.com/BCCI/status/2104237124434407629
ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আলজারি জোসেফের বল ডিপ মিড উইকেট বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন বিরাট। এর পর মাত্র ৭৪ বলে কেরিয়ারের ৫৫ তম ওডিআই সেঞ্চুরিও এল ছক্কা হাঁকিয়েই। মাঠের চারদিকে ১০টি বাউন্ডারির পাশাপাশি এ দিন মোট ৯টি ছক্কা মেরেছেন বিরাট। যাঁরা তাঁর ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত, তাঁদের কাছে সত্যিই যেন অবিশ্বাস্য! তাইতো ১০৮ বলে ১১০ রান করেও ক্যাপ্টেন গিল এ দিন নিছক সহযোদ্ধা ছাড়া কিছুই নন।
এ দিন টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলিংকে চাপে রাখলেও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন কুলদীপ যাদব। মাত্র ৪০ রান দিয়েই ৪ উইকেট নিজের পকেটে পুরেছেন এই বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার। তবু জাস্টিন গ্রিভসের দুরন্ত শতরানের (১০১) পাশাপাশি জন ক্যাম্পবেল এবং আমির জাঙ্গুর হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কে জানত, সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যেতে ভারতের লাগবে মাত্র ৪১.৪ ওভার।

প্রথম উইকেটে রোহিত শর্মার সঙ্গে ৭৪ রান জুড়েছিলেন গিল। ব্যক্তিগত ৩২ রানে হিটম্যান ফিরতেই ক্রিজে এসে, বলা যায়, শুরু থেকেই তাণ্ডব চালাতে থাকেন বিরাট। বিরল মাইলফলক ছোঁয়ার চাপ যে তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও প্রভাব ফেলেনি, কার্যত সেটাই বুঝিয়ে দেন তিনি। যেন দ্রুত ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে যেতেই মুখিয়ে ছিলেন। সেটা হয়ে যেতেই শচীন তেন্ডুলকরের পর পর দুটি রেকর্ড ভেঙে দেন মর্ডান চেজ মাস্টার। ১৫ হাজারি ক্লাবে ঢুকতে ক্রিকেটের ভগবান নিয়েছিলেন ৩৭৭ ইনিংস। সেখানে মাত্র ৩০৩ ইনিংসেই এই মাইলফলক ছুঁয়ে ওডিআই ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫ হাজার রানের নজির গড়ে ফেলেন বিরাট। এর পাশাপাশি শচীনকে টপকে এখন কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের মাটিতে সর্বাধিক ওয়ানডে রানের মালিকও তিনি। ভারতের মাটিতে ওডিআইতে কোহলির মোট রানসংখ্যা আপাতত ৭,০০৬।
