নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে চলা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা SIR-এর পর বাদ পড়া ভোটারদের জন্য ফের নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ফের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার অনলাইনেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি জেলার ইলেক্টোরাল অফিসারের ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারের কাছ থেকেও ফর্ম ৬ নিয়ে আবেদন করা যাবে।
শুধু SIR-এর সময় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের জন্যই এই সুযোগ নয়। যাঁরা প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করা নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও এই ফর্ম ব্যবহার করা যাবে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। যাঁদের নাম বাদ যাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে এবং সেই আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন এই প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমন আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। ফলে ট্রাইব্যুনালে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই বিতর্কের মধ্যেই ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আলোচনা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের বক্তব্য ছিল, কোনও পরিবর্তিত ফর্ম ৬-কে তারা অনুমোদন করেনি। বিষয়টি কীভাবে পরিবর্তিত হল, তার ব্যাখ্যাও আদালত জানতে চেয়েছে।
এদিকে SIR নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব। ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন সদনমুখী বিক্ষোভও করেছে বিরোধী জোটের নেতারা।
ফলে একদিকে বাদ পড়া ভোটারদের ফের নাম তোলার সুযোগ, অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক আবেদন দুই বিষয় নিয়েই এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যাঁদের নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদের জন্য কি আলাদা কোনও ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে?
