ওডিআই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই তারাই এখন অনিয়মিত এবং অনিশ্চিত বিশ্বকাপের মঞ্চে। এর আগে গত ২০২৩ সালের বিশ্বকাপেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। আর এ বারেও যেন সেদিকেই গড়াচ্ছে পরিস্থিতি। লাগাতার খারাপ পারফরম্যান্সের জেরে আগামী ২০২৭ বিশ্বকাপেও সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল তাদের সামনে। বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা করে নিতে এ বারও কোয়ালিফায়ার পর্ব খেলতে হবে সাই হোপদের।
২০১৯ সালে শেষবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে দেখা গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে সেবারও সরাসরি সুযোগ পায়নি তারা। কোয়ালিফায়ারের বাধা পেরিয়ে পৌঁছতে হয়েছিল মূল পর্বে। এর ৪ বছর পর সেই বাধা টপকাতে না পারায় ২০২৩ সালের বিশ্বকাপই খেলা হয়নি ১৯৭৫ এবং ৭৯-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এ বারেও একই ছবি। আগামী বছরের বিশ্বকাপে আয়োজক হিসাবে সরাসরি জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে নামিবিয়া আয়োজক দেশ হলেও আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় তাদেরও খেলতে হবে যোগ্যতা অর্জন পর্ব।
এ ছাড়া বাকি আটটি জায়গা নির্ধারিত হবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। আর ঠিক এখানেই বিপদে পড়ে গিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের পর ৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে নেমে গিয়েছে তারা। তাদের ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ (৮৩) এবং আফগানিস্তান (৯০)। এর পর আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু সেই সিরিজ ৩-০ জিতলেও লাভ হবে না। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে অন্ততঃ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম আটে থাকতে হবে। সেখানে এই সিরিজ শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর।
সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ হারানোর হলে এখন আর কোয়ালিফায়ার খেলা ছাড়া কোনও গতি নেই ক্যারিবিয়ানদের। যেমনটা খেলতে হয়েছে গত দুবারও। মূলতঃ আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের জয়ই শেষ করে দিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার শেষ আশাটুকু। এই জয়ের ফলে আফগানিস্তান বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ফেললেও আরও একবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্য। ভাবা যায়, এক সময় যারা বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করত, আজ তারা লড়ছে যোগ্যতা অর্জনের জন্য! সত্যিই সময় বড়ো নিষ্ঠুর!