কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে তথা নয়ডার জেলা শাসক মেধা রূপমের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক রাখার সিদ্ধান্ত খারিজ করে আদালত তাঁকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই টাকা মেধা রূপম-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে আদায় করা হবে। উল্লেখ্য, শ্রমিকদের হয়ে আন্দোলনে নামার জেরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রায় ৫ মাস জেলে ছিলেন ২৪ বছরের আকৃতি।
২ সেপ্টেম্বর বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আকৃতিকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল না প্রশাসনের হাতে। এমনকি আটক রাখার কারণগুলিও ছিল অনুমাননির্ভর। আদালতের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন কখনও সাধারণ ফৌজদারি আইনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার, অর্থাৎ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ, লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।
নোয়ডার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। পুলিশি রিপোর্টে থাকা নিছক অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা আনন প্রয়োগের আগে জেলা শাসকের স্বাধীন ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই পদক্ষেপ শ্রমিকদের সমর্থনে মুখ খোলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। আধিকারিকদের আনুগত্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি নয়, সংবিধানের প্রতি থাকা উচিত বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আদালত। প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা চলতে থাকলে উত্তরপ্রদেশ ‘অরওয়েলিয়ান ডিস্টোপিয়া’-র দিকে এগোতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বেঞ্চ।
মেধা রূপম ২০১৪ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। ২০১৩ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ছিল ১০। জাতীয় স্তরের রাইফেল শুটার হিসাবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে নয়ডার প্রথম মহিলা জেলা শাসক হন তিনি। তাঁর বাবা জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে দেশের ২৬ তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের এই আইএএস আধিকারিক দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার, জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন এবং রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।