স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বামীকে জানিয়ে দেওয়ার জেরে খুন হতে হয়েছিল এক যুবককে। ২০১৯ সালের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। চুঁচুড়া আদালতের প্রথম দায়রা বিচারক রিন্টু সুর গতকাল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার পর আজ এই ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম অজয় মন্ডল। আর এই হামলায় নিহত যুবকের নাম অতনু সরকার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। চুঁচুড়ার আনন্দমঠ এলাকার এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল অভিযুক্ত অজয় মন্ডলের। কিন্তু সেই পরকীয়ার বিষয়টি জেনে ফেলেন চুঁচুড়া ঝিলপাড়ের বাসিন্দা অতনু সরকার ও সুরজিৎ মাল। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, তাঁরা মহিলার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দেন। নিজের গোপন সম্পর্কের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অতনু ও সুরজিতের ওপর চরম আক্রোশ তৈরি হয় অজয়ের মনে।
সেই আক্রোশের বশবর্তী হয়েই ২০১৯ সালের ১১ জুলাই গভীর রাতে অতনু ও সুরজিতের ওপর আচমকা চড়াও হয় অজয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হলেও, পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অতনু সরকারের। সুরজিৎ ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর জখম হন।
বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখেই চার্জ গঠন করা হয়। মামলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় সরকারি আইনজীবী দেবেন্দ্র তেওয়ারী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আদালতে সওয়াল-জবাব চালান। মামলাটিতে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে আদালত এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ আখ্যা দিয়ে অপরাধী অজয় মন্ডলকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও আইনজ্ঞ মহল।