আসছে একুশে জুলাই, কিন্তু ২০২৬-এর এই দিনটায় মহাসংকটে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। গতবছর অবধি জুলাইয়ের ২১ তারিখটায় কলকাতায় যে সমাবেশ হত ধুমধাম করে, এবার তার জন্য অনুমতি চাইতে আদালতে যেতে হল কালীঘাট তৃণমূলকে। কলকাতা হাইকোর্ট বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার পর প্রকাশিত নতুন প্রচার পোস্টার প্রকাশ্যে এনেছে দল। কিন্তু তাতে এক বিরাট পরিবর্তন। পোস্টারে দেখা গেল শুধুমাত্র দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, নেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও চিহ্ন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বুধবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তাঁর সমাজমাধ্যমে একুশে জুলাইয়ের নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘বিড়লা তারামণ্ডল চলুন’। পোস্টারে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে। সমাবেশের বক্তাদের তালিকাতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। পরে একই পোস্টার নিজের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন অভিষেকও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগের দিন তৃণমূলের প্রকাশিত পোস্টারে ‘কলকাতা চলো’ স্লোগানের সঙ্গে মমতা ও অভিষেক—দু'জনেরই ছবি ছিল। তখনও সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশে স্থান নির্ধারণ হওয়ার পর প্রকাশিত নতুন পোস্টারেই অভিষেকের ছবি বাদ পড়ে।
এমন এক সময় এই পোস্টার প্রকাশ্যে এল, যখন দলের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। কালীঘাট শিবিরের একাধিক নেতা ও বিধায়ক সম্প্রতি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন। সেই তালিকায় সাম্প্রতিক সংযোজন হিসেবে উঠে এসেছে মদন মিত্রের নামও। মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রীর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে তলবের পর বুধবার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়।
তবে অভিষেকের ছবি না থাকাকে ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০২৫ সালের একুশে জুলাইয়ের প্রচার পোস্টারেও শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। সে সময় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী একুশে জুলাইয়ের প্রচারে শুধুই দলের নেত্রীর ছবি থাকবে। সেই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অবগত ছিলেন। এছাড়াও ২০২৩ সালে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দলের কর্মসূচির পোস্টারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অভিষেকের ছবি রাখা হয়নি। ফলে এবারের পোস্টারেও তাঁর অনুপস্থিতিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার আগে অতীতের নজিরগুলিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।