বিছানায় পড়ে চিকিৎসক স্বামীর নিথর দেহ, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় আট বছরের ছেলে। এই অবস্থাতেই স্বামীর মরদেহের পাশে নির্বিকারভাবে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন এক মহিলা। কর্নাটকের ধারওয়াড়ের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিকিৎসক স্বামীকে খুন এবং আট বছরের সন্তানকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধারওয়াড়ের একটি আবাসনে চিকিৎসক কিরণ হোনান্নাভার, তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে কিরণের এক আত্মীয় ফোন করলে সেটি রিসিভ করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানান, কিরণ কাজে ব্যস্ত থাকায় ফোন ধরতে পারছেন না। বুধবার সকালেও একই উত্তর দেন তিনি। পরিবারের দাবি, ফোনে তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক, ফলে কোনও সন্দেহের অবকাশ তৈরি হয়নি।
তবে বুধবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ সময় কিরণের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় কিরণের দেহ এবং মেঝেতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের আট বছরের ছেলেকে দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কিরণের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। আহত সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হুব্বলি-ধারওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার এন শশীকুমার জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি আট বছরের সন্তানের উপর হামলার কারণও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।