রথযাত্রার আগে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের রাসমণ্ডল মন্দিরে এক চিকিৎসককে স্টেথোস্কোপ দিয়ে তিন দেবতার বিগ্রহ পরীক্ষা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওই মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে। অনেকের কাছে ঘটনাটি অভিনব মনে হলেও, মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বহু বছরের প্রচলিত ধর্মীয় আচার।
হিন্দু ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, স্নানযাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে ১০৮ কলসি জল দিয়ে মহাস্নান করানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই স্নানের পর তিন দেবতা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর শুরু হয় ‘অনবাসর’ পর্ব, যেখানে টানা ১৪ দিন তাঁদের ভক্তদের দর্শনের বাইরে রাখা হয়। এই সময় দেবতাদের সুস্থতার জন্য ভেষজ মিশ্রণ ও ঔষধি ক্বাথ ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
প্রথা অনুসারে, স্নান পূর্ণিমার পরদিন থেকে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা পর্যন্ত দেবতারা বিশ্রামে থাকেন। এই সময় রথযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। জৌনপুরের রাসমণ্ডল মন্দিরে সেই রীতিই পালন করা হয়, যেখানে চিকিৎসক স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে প্রতীকী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত মঙ্গলবারের বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চিকিৎসক একে একে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের বুকে স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে পরীক্ষা করছেন। দৃশ্যটি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও, মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটি কোনও নতুন উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যেরই অংশ।
বৃহস্পতিবার এই মন্দিরে রাজকীয় আয়োজনে খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয় এবং বিপুল ভক্তসমাগমের মধ্যে প্রভু জগন্নাথের রথযাত্রা ও বার্ষিক শোভাযাত্রা বের হয়। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রতীকী ব্যবহার সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেও, ধর্মীয় আচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এই মেলবন্ধন বহু বছর ধরেই জৌনপুরের রাসমণ্ডল মন্দিরে পালন হয়ে আসছে।