ডায়েট শুরু করলেই অনেকের প্রথম লক্ষ্য থাকে ওজন কমানো। আর সেই কারণেই প্রায় প্রতিদিনই ওজন মাপার যন্ত্রে উঠে দাঁড়ান অনেকেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সময় ওজন মাপলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে ওজন বেশি বা কম দেখাতে পারে। তাই ভুল ফলাফল দেখে অযথা হতাশ বা অতিরিক্ত খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, খাওয়াদাওয়ার পর কখনও ওজন মাপা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এই বাড়তি ওজন শরীরে জমে থাকা মেদের জন্য নয়, বরং খাবার ও তরলের ওজনের কারণে। তাই এই সময়ে ওজন মাপলে প্রকৃত ফলাফল জানা যায় না।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগলেও ওজন মাপা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় মলত্যাগ না হলে শরীরে অতিরিক্ত বর্জ্য জমে থাকে। এর প্রভাব ওজনের উপর পড়তে পারে এবং যন্ত্রে প্রকৃত ওজনের তুলনায় বেশি সংখ্যা দেখা যেতে পারে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের আগে বা চলাকালীন সময়েও ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে জল জমে থাকে এবং পেট ফেঁপে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখানো অস্বাভাবিক নয়।
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও ওজনের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ঘুমের অভাব শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি আগের রাতে অতিরিক্ত নোনতা বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে শরীরে জল ধরে রাখার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলেও ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
অনেকেই বেড়াতে গিয়ে ইচ্ছেমতো খাওয়াদাওয়া করার পর বাড়ি ফিরে সঙ্গে সঙ্গে ওজন মাপেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ঠিক নয়। ভ্রমণের সময় খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ায় ওজন কিছুটা বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত জীবনযাত্রায় ফিরে আসার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেই বাড়তি ওজন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সঠিক ওজন জানতে চাইলে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃকৃত্য সেরে, কিছু খাওয়া বা পান করার আগে ওজন মাপাই সবচেয়ে ভালো। একই ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা এবং একই সময়ে ওজন মাপলে ফলাফল তুলনা করা সহজ হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন ওজন না মেপে সপ্তাহে এক দিন বা ১৫ দিনে এক বার ওজন মাপাই যথেষ্ট। এতে শরীরের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝা যায় এবং অকারণ মানসিক চাপও কম থাকে।