তারাপীঠ: শক্তিপীঠের আবহে বদলের হাওয়া। ভক্তদের ভিড় সামলাতে এবং গর্ভগৃহের পবিত্রতা বজায় রাখতে তারাপীঠ মন্দিরে জারি হল একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—এবার থেকে আর কোনও সাধারণ ভক্ত দেবী তারার বিগ্রহ স্পর্শ করতে পারবেন না। গর্ভগৃহে প্রবেশেও থাকছে কড়া নিয়ন্ত্রণ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভিড়ের চাপে গর্ভগৃহে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছিল। বহু ভক্ত দেবীকে স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন, যার ফলে নিরাপত্তা এবং নিত্যপুজোর পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভগৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি মেনে চলতে হবে। সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেই দেবীর দর্শন করবেন। শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোহিত এবং মন্দিরের অনুমোদিত সেবাইতরাই বিগ্রহ স্পর্শ করে নিত্যপুজো ও অন্যান্য আচার সম্পন্ন করতে পারবেন।
মন্দির কমিটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য নয়। বরং প্রতিদিন কয়েক হাজার দর্শনার্থীর নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল দর্শনের ব্যবস্থা করতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে সপ্তাহান্ত, অমাবস্যা, কৌশিকী অমাবস্যা এবং বিভিন্ন উৎসবের সময় বিপুল ভিড় সামলাতে প্রশাসনেরও হিমশিম খেতে হয়।
এছাড়াও গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন ব্যবহার, ছবি তোলা, অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং ভিড় তৈরি করার মতো আচরণের উপরও কড়া নজরদারি থাকবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তারক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানা গিয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একদিকে যেমন গর্ভগৃহের পবিত্রতা বজায় থাকবে, তেমনই ভক্তরাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেবী তারার দর্শনের সুযোগ পাবেন। তবে বহু ভক্তের কাছে দেবীকে স্পর্শ করে প্রণাম করার দীর্ঘদিনের রীতি বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলছেন, আবার কারও মতে, শতাব্দীপ্রাচীন এক আবেগের ইতি ঘটল।
এখন নজর, নতুন এই বিধিনিষেধ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভক্তরা তা কতটা সহজে মেনে নেন।




