কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনে ফের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত এক চিকিৎসকের কন্যার পদাবনতি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। শুধু পদাবনতিই নয়, উচ্চপদে থাকার সময় তিনি যে অতিরিক্ত বেতন ও আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, তা-ও সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে স্বাস্থ্য ভবন থেকে শুরু করে সরকারি মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পদোন্নতি এবং বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক প্রশাসনিক অসঙ্গতি নজরে আসে। অভিযোগ, প্রচলিত পরিষেবা বিধি ও যোগ্যতার মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই তাঁকে উচ্চতর পদে উন্নীত করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্তে পৌঁছয় সরকার যে ওই পদোন্নতি নিয়মসিদ্ধ ছিল না। এরপরই তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, পদোন্নতির ফলে এতদিন যে অতিরিক্ত বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা তিনি পেয়েছেন, তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আদায় করা হবে। কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ ফেরত নেওয়া হবে, তা নিয়ে দফতর ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি নির্দিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি নয়; সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিধি মেনে চলার বার্তাও বহন করছে। একই সঙ্গে অতীতের বিতর্কিত পদোন্নতি বা বিশেষ সুবিধা পাওয়া অন্য কয়েকটি মামলাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করেপূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নতুন করে সামনে এল।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা তাঁর কন্যার পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।