রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ফের শুল্ককে হাতিয়ার করতে চলেছে আমেরিকা। মার্কিন সেনেটে এমন একটি নতুন বিল আনার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কিনলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিলটি ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসের সমর্থন পেয়েছে এবং আগামী আগস্টের আগেই এটি সেনেটে পাস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সেনেটরদের একটি দ্বিদলীয় গোষ্ঠী এই বিলের প্রস্তাব এনেছে। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় কমাতে এবং মস্কোর উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা পাঁচটি দেশের উপর এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। তাঁর কথায়, “রাশিয়ার তেল আমদানি করা দেশগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
নতুন বিল কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের উপর। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলিকেও এই শুল্কের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরও রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় সদ্যপ্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটি বিল আনেন, যেখানে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই বিল শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।
বর্তমান বিলটিকে ওই প্রস্তাবেরই সংশোধিত সংস্করণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এবার শুল্কের হার কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। মার্কিন সেনেট সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ২৬ জন সেনেটর এই বিলের সমর্থনে নাম লিখিয়েছেন এবং আগামী দিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যদি এই বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয়, তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলিকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে। একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।