হঠাৎ-ই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা কোলিয়ারি এলাকা। ধুলোয় ঢাকলো চারিদিক। হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়লো তাই ৭০ বছর পুরানো একটি জলের ট্যাঙ্ক। অল্পের জন্য বড়সড়ো বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেল। ঘটনা পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি এলাকার। বুধবার সকালের এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ইসিএলের দুই কর্মী সঙ্গীতা দেবী ও প্রভাবতী ভুঁইঞা। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চলছে তাদের চিকিৎসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হঠাৎ করে বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বিশাল আকারের এই ট্যাঙ্কটি। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষজন তড়িঘড়ি ছুটে আছেন। এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো ভয় পেয়ে যান তারা। তাদের দাবি ট্যাঙ্কটির বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেদিকে কোনরকম কর্ণপাত করা হয়নি। সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ইসিএল কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং দীর্ঘদিনের অবহেলাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ বিষয়ে ইসিএল কর্মী প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, 'আজ দু'জন আহত হয়েছেন, কিন্তু প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।'
কোলিয়ারি এলাকায় একাধিক পুরানো কাঠামো বিপদজনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দিনের পর দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। বারংবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করা হলেও কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না ইসিয়াল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলে অভিযোগ করে শ্রমিক সংগঠনগুলির।
এই ঘটনাকে ঘিরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই দিন অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেলেও, আগামী দিনে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য অবিলম্বে সমস্ত পুরনো কাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার পর ইসিএল কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।