কলকাতা: ভালবাসার কোনও নির্দিষ্ট ভাষা নেই। কখনও একটি ফুল, কখনও একটি আলিঙ্গন, কখনও আবার নিঃশব্দে হাত ধরে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর অনুভূতি। আর সেই ভালবাসারই সবচেয়ে চেনা, সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে আবেগঘন প্রকাশ— একটুকরো চুম্বন। কিন্তু সেই চুম্বনই যদি বিশ্বরেকর্ডের খাতায় নাম লেখায়? শুনতে অবাক লাগলেও, সেটাই করে দেখিয়েছেন ব্রাজিলের এক প্রেমিক-প্রেমিকা।
আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস উপলক্ষে এমন এক কীর্তি গড়েছেন তাঁরা, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫ বার চুম্বন! এই নজির গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন ব্রাজিলের রেনাতো বায়মা গাইয়া এবং তাঁর প্রেমিকা নাইরা রবার্টা রিবেইরো ডি মারিন্স। গিনেসের স্বীকৃতি মিলতেই তাঁদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কেউ ভালবাসার উদ্যাপন দেখছেন, কেউ আবার হাস্যরসের খোরাক খুঁজে পাচ্ছেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কাউন্টডাউন শুরু হতেই বিদ্যুৎগতিতে প্রেমিকার গালে একের পর এক চুম্বন এঁকে চলেছেন রেনাতো। পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সেই মুহূর্ত উপভোগ করছেন নাইরা। মাত্র আধ মিনিটের মধ্যেই ১৯৫টি চুম্বন সম্পূর্ণ করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেন তাঁরা। ভালবাসার এই অভিনব প্রকাশেই এখন মজেছে নেটদুনিয়া।
তবে রেনাতোর কাছে রেকর্ড গড়া নতুন কিছু নয়। ৩২ বছর বয়সি এই চিকিৎসক এর আগেও একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে করেছেন। কখনও দ্রুততম সময়ে ১০টি বই ফেলে দিয়ে, কখনও আবার সবচেয়ে বেশি বার পা ঘুরিয়ে। অভিনব সব চ্যালেঞ্জই যেন তাঁর নেশা।
রেনাতোর কথায়, “বিশ্বরেকর্ড গড়া আমার কাছে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করার একটি মাধ্যম। মানুষ যেন বিশ্বাস করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনি এডিএইচডি-তে আক্রান্ত। পাশাপাশি একজন অস্থিমজ্জা দাতাও। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেখাতে চান, কোনও শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না। বরং সেই লড়াই থেকেই জন্ম নেয় নতুন সাফল্যের গল্প।
তবে রেকর্ডের পাশাপাশি সমান চর্চায় উঠে এসেছে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াও। কেউ মজা করে লিখেছেন, "এত দ্রুত চুমু খেতে হলে মানুষের ঠোঁট নয়, পাখির ঠোঁট দরকার!" আবার অন্য একজনের প্রশ্ন, “এটা কি সত্যিই ১৯৫টা চুম্বন? আমার তো মনে হচ্ছে একটানা একটাই চুম্বন চলছিল!”
আর এক নেটাগরিক লিখেছেন, "যদি এটাই চুমু হয়, তাহলে এতদিন ভুল পদ্ধতিতেই চুমু খেয়ে এসেছি!" কেউ আবার রসিকতা করে বলেছেন, "এতক্ষণ ধরে একই রকম হাসি ধরে রাখাটাই আলাদা করে বিশ্বরেকর্ড হওয়া উচিত।" আর একজনের ঘোষণা, “বিয়ে করলেই এই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করব!”
ভালবাসার এই অভিনব উদ্যাপন এখানেই থেমে থাকছে না। রেনাতো এবং নাইরার পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়। তাঁরা এবার এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি চুম্বনের বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে চান। বর্তমানে সেই রেকর্ড রয়েছে এক জাপানি দম্পতির দখলে। ৬০ সেকেন্ডে ২৭৭টি চুম্বন করে তাঁরা গড়েছিলেন সেই নজির।
ভালবাসা কখনও কবিতা হয়ে ওঠে, কখনও গান। কখনও আবার বিশ্বরেকর্ডও। আর সেই রেকর্ডকে ঘিরেই এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহল, হাসি, বিস্ময় আর অফুরন্ত আলোচনা। প্রেমের প্রকাশ যে কত রকম হতে পারে, ব্রাজিলের এই যুগল যেন আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।