নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সাংসদপদ খারিজের দাবিকে কেন্দ্র করে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দেওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের নোটিসের জবাব দিতে আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন এনসিপিআই-র সঙ্গে যুক্ত ওই সাংসদরা। আর এই সময় চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই বুধবার ফের সুপ্রিম কোর্টে নজর রয়েছে।
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং সংসদে পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানান।
এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ২৫ অগস্ট শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস দেয়। আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, স্পিকারের তরফে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এরপর লোকসভা সচিবালয় ওই সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য জানাতে সময় দেয়। প্রথমে সাত দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে সময় বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও জট কাটেনি। NCPI-এর সংসদীয় চেয়ারপার্সন কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, ২০ জন সাংসদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও সম্পূর্ণভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই আরও চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে।
এই অতিরিক্ত সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছে। দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, দলত্যাগ সংক্রান্ত নোটিসের জবাব দিতে বারবার সময় চাওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। অন্যদিকে, NCPI-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য একত্রিত করার জন্যই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
এদিকে, গোটা বিষয়টি এখন সংসদীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় পর্যায়েও রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন মূলত স্পিকারকে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে চলা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবিকে কেন্দ্র করেই। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে এই সময় চাওয়ার বিষয়টি এবং স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে কী অবস্থান নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশ, এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে গোটা মামলার গতিপথ নির্ধারণ করবে।
