নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় স্বাধীনতা কি ক্রমশ প্রশ্নের মুখে? প্রার্থনা করতে গিয়ে আতঙ্ক, বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে মারধর, ভাঙচুরের মতো একাধিক অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা এমন কিছু ঘটনার বিবরণ সামনে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারী কর্মী ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় বসেছিল বিশেষ জন আদালত। সেখানে একের পর এক অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা শুনে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর হামলা, হেনস্তা ও ভয় দেখানোর মোট ৪৮ টি অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ শুনেছে এই গণ আদালত। গত ২ নভেম্বর কলকাতার মুসলিম ইনস্টিটিউটে 'কারওয়ান এ মহব্বত' নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে দিনভর এই শুনানির আয়োজন করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের অভিযোগকারীরা সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
শুনানিতে উঠে আসে প্রার্থনা সভা, গির্জা এবং ব্যক্তিগত বাড়িতে হামলার অভিযোগ। কোথাও মারধর, কোথাও সম্পত্তি ভাঙচুর, কোথাও আবার ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশেষভাবে উঠে আসে বর্ধমানের রায়ানের ঘটনা। অভিযোগ, গত ১ নভেম্বর ট্রু লাইট হারভেস্টার্স চার্চের সঙ্গে যুক্ত খ্রিস্টানদের উপর হামলা চালায় ৬০-৭০ জনের একটি দল। সুমান্তো নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের মারধর ও ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত হন যাজক চাট্টু দাশ। তাঁর গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযোগ, অনুযায়ী পাঁচ শিশু সহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনকে পরীক্ষার পর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের থানায় অপেক্ষা করা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই গণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ তনিকা সরকার, প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার, মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মন্দার, সাংবাদিক জন দয়াল এবং প্রাক্তন সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের বক্তব্য, এই শুনানির উদ্দেশ্য কোনও অভিযোগকে আগে ভাগে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং নিরপেক্ষ তদন্ত, পুলিশি পদক্ষেপ এবং আক্রান্তদের সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি তোলা। পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।




