নিউজ ডেস্ক: জন্মদিনের রাতেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বাড়ানো হয় পুলিশি নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয় RAF-ও।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছে। এমনকি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশের সামনেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
https://www.facebook.com/share/v/1DHeKcUgGC/
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গত দু’দিন ধরে অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ি তাঁর বাড়ি ও অফিসের আশপাশে নজরদারি চালাচ্ছিল। তাঁদের ব্যবহৃত মোটরবাইকের নম্বরও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের পিছনে কারা রয়েছে, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান সাংসদ।
https://www.facebook.com/share/v/14uGjwqG2ha/
অন্যদিকে, শনিবার মধ্যরাতে ঠিক কী নিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সূত্রের খবর, সাংসদের জন্মদিনের সূচনা লগ্নে কালীঘাটের বাসভবনের সামনে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক শুভেচ্ছা জানাতে জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় বিজেপি কর্মীরা এলাকায় পৌঁছে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং জন্মদিনের ব্যানার-কাটআউট ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ। তৃণমূল কর্মীরা বাধা দিলে মুহূর্তের মধ্যে বচসা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
https://www.facebook.com/share/v/1FRbEUkabg/
ঘটনার খবর পেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিচে নেমে এলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গরু চোর’, ‘মাছ চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত দুটো নাগাদ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে পড়েন অভিষেক। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ তাঁকে ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ করলে কর্তব্যরত আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন সাংসদ। পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে ক্ষুব্ধ অভিষেক বলেন, “আমি জায়গা খালি করব না, এখানেই বসব। এটা কি আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি? শুনুন, আপনি পাবলিক সার্ভেন্ট, আমি পাবলিক রিপ্রেজেন্টেটিভ। রাত আড়াইটের সময় তাণ্ডবলীলা চালানো হচ্ছে আর আপনারা নীরব দর্শকের মতো দেখবেন? ভাবছেন আমরা ভিডিও রেকর্ড করে রাখিনি?”




