স্পোর্টস ডেস্ক: জল্পনার অবসান। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন মহম্মদ শামি। শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার। ১৩ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে দেশের হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলে ২২৯টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছেন না শামি। সাদা বলের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে শামি লিখেছেন, ‘সাদা জার্সি থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো কখনও বিদায় নেবে না। প্রথম বার ভারতের টেস্ট জার্সি পরার সময় একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করে দেখানো। তার পর থেকে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি লড়াই, প্রতিটি চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটা ফরম্যাট ছিল না, এটা আমার জীবনের বিশেষ একটা অংশ হয়ে উঠেছিল। আজ ভারী মন এবং অগুনতি সুন্দর স্মৃতি নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এই যাত্রায় পাশে থাকা প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং কোটি কোটি ভারতীয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ। যাঁরা ভাল এবং কঠিন— দু’সময়েই আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন।’
বিসিসিআই এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলার এই পেসার। তাঁর কথায়, ‘আমার উপর বিশ্বাস রাখা, আমাকে উন্নতির সুযোগ দেওয়া এবং ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য বিসিসিআই ও সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস সব সময় আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গায় থাকবে।’ শেষে শামি লিখেছেন, ‘মাঠে আমার টেস্ট ক্রিকেটের শেষ বলটা করা হয়ে গেলেও, ভারতের হয়ে খেলার গর্ব সব সময় আমার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।’
২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। প্রথম ম্যাচেই নিয়েছিলেন ন’টি উইকেট। ঘটনাচক্রে, টেস্ট অভিষেকের ১৩ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই অবসরের ঘোষণা করলেন তিনি। টেস্টে ছ’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর সেরা বোলিং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পার্থে, ৫৬ রানে ছ’উইকেট।
২০২৩ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল শামির শেষ টেস্ট। সাম্প্রতিক সময়ে চোট এবং ফিটনেসের সমস্যায় দীর্ঘ দিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে তিনটি ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। তার আগে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট পেয়েছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটে শামির অধ্যায় শেষ হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদান থেকে যাবে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে তাঁর সিম মুভমেন্ট, সুইং এবং ধারাবাহিক গতির সামনে বহু ব্যাটারকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।




