স্পোর্টস ডেস্ক: দেশের হকির ইতিহাসে এক অমূল্য অধ্যায়। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে সোনা জিতেছিল ভারতীয় পুরুষ হকি দল। সেই ঐতিহাসিক দলের সদস্য ছিলেন এম এম সোমায়া। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে যে পদক আগলে রেখেছিলেন তিনি, এ বার সেটাই চুরি হয়ে গেল তাঁর বাড়ি থেকে! শুধু অলিম্পিকের সোনার পদক নয়, একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া পদক, গয়না এবং নগদ টাকাও নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর নিউ থিপ্পাসান্দ্রা এলাকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর ভোররাতে সোমায়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ২৫ অক্টোবর পরিবারের সঙ্গে কর্নাটকের কোডাগু জেলায় নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন হকি তারকা। সেই সুযোগেই ফাঁকা বাড়িতে হানা দেয় দুই দুষ্কৃতী। ভোর ২টা ৩৪ মিনিট নাগাদ বাড়ির সামনের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে তারা। সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান। তাঁরাই সোমায়াকে খবর দেন। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতে দেখা যায়।
চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকের সোনার পদক, ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে পাওয়া রুপো এবং ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে পাওয়া ব্রোঞ্জের পদক। ১৯৮২ সালের আমস্টারডাম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জেতা আরও একটি ব্রোঞ্জের পদকও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এ ছাড়া রয়েছে রুপোর কাপ, সোনার বালা, সোনার গয়না, রুপোর চামচ, সোনার কয়েন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।
তবে সোমায়ার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান ছিল মস্কো অলিম্পিকের সোনার পদক। তাঁর কথায়, সেটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের স্মারক নয়, ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দেশের হয়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার প্রতীক ওই পদক। তাই সেটি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
১৯৮০, ১৯৮৪ এবং ১৯৮৮—তিনটি অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সোমায়া। ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিকে ভারতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে। পদক চুরির ঘটনায় ইন্দিরানগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩১(৪) এবং ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গঠন করা হয়েছে দুটি বিশেষ দল।
এ দিকে, ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে চিঠি লিখেছেন সোমায়া। দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদন, পদকটির জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ যেন উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নেয়। কারণ, অলিম্পিকের সোনার পদক কোনও একজন ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, তা গোটা দেশের সম্মান।




