নিউজ ডেস্ক: ভোটের পরই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। আমেরিকার রাজনীতিতে এবার নয়া নজির গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রণজীব পুরী। মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতা। এই পদে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান হিসাবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সহকর্মীদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন রণজীব। এর আগে ২০২০ সালে মিশিগানের আইনসভায় প্রথম শিখ-আমেরিকান প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরে ফেসবুকে রণজীব লেখেন, ‘আজ মিশিগান হাউসের স্পিকার হিসাবে সহকর্মীদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আমি সম্মানিত ও আপ্লুত।’ পাশে থাকার জন্য সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ। কাজ শুরু করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’ সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত ড্যারিন কামিলেরি এবং গভর্নর নির্বাচিত জোসেলিন বেনসনের সঙ্গে কাজ করে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চান তিনি।
পাঞ্জাবি অভিবাসী পরিবারের সন্তান রণজীব। ২০২৫ সালে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১১০ সদস্যের মিশিগান আইনসভায় ডেমোক্র্যাট দলের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এ বার ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় স্পিকার হওয়ার পথ খুলে যায় তাঁর সামনে।
নিজের সাফল্যকে বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ হিসাবেই দেখছেন রণজীব। তাঁর কথায়, ‘আমার বাবা-মা যখন এই দেশে অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন, তখন তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি যে এক দিন তাঁদের ছেলে ইতিহাস তৈরি করবে, বাধা ভেঙে মিশিগান আইনসভার নেতৃত্ব দেবে। এটাই আমেরিকার প্রতিশ্রুতি।’
রাজনীতিতে আসার আগে ২০০৮ ও ২০১২ সালে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারে কাজ করেছেন রণজীব। পরে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথ স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ করেন। তার পরে মিশিগানে ফিরে গাড়ি শিল্পে কাজ শুরু করেন।
রণজীবের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান ইমপ্যাক্ট’। সংগঠনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিন্তন প্যাটেল বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে আবাসন—সব ক্ষেত্রেই মানুষের খরচ কমানোকে নিজের কাজের অন্যতম লক্ষ্য করেছেন রণজীব। দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ার সময়ে তিনি তাঁদের নিরাপত্তা রক্ষায়ও কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্যাটেল।




