নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবা হায়দার। ইলিনয়েসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস নির্বাচনে জয়ী হয়ে সে রাজ্যের আইনসভায় প্রথম দক্ষিণ এশীয় মহিলা প্রতিনিধি হওয়ার নজির গড়লেন তিনি। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইলিনয়েসের ৮৪ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিপুল ভোটে জিতেছেন সাবা। পেয়েছেন মোট ভোটের ৭০.৯ শতাংশ। তাঁর ঝুলিতে ২০ হাজার ৭৫৬টি ভোট। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান স্কোপা পেয়েছেন ৮ হাজার ৫২০টি ভোট, যা মোট ভোটের ২৯.১ শতাংশ।
৮৪ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্গত উইল, ডুপেজ, কেন এবং কেন্ডল কাউন্টির বেশ কিছু এলাকা। অরোরা, নেপারভিল, অসওয়েগো, মন্টগোমেরি এবং বোল্ডার হিলের মতো অঞ্চলও এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। দীর্ঘ প্রচারের পরে এই জয়কে সাধারণ মানুষের আন্দোলনের সাফল্য হিসাবেই দেখছেন সাবা। সমাজমাধ্যমে জয়ের খবর জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা পেরেছি! গত ১৫ মাস ধরে ৮৪ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের প্রতিটি প্রান্তে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাঁরা কোন বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন, কী কী পরিবর্তন চান এবং কী ভাবে একসঙ্গে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা যায়, তা বোঝার চেষ্টা করেছি।’
জয়ের পরে ভোটার, পরিবারের সদস্য, বন্ধু, প্রচার দলের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এই প্রচারকে ‘তৃণমূল স্তরের মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা আন্দোলন’ বলেও উল্লেখ করেছেন সাবা। তাঁর বক্তব্য, ‘শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচন ছিল সেই মানুষদের জন্য, যাঁরা এই জনপদকে নিজেদের বাড়ি বলে মনে করেন। এই নির্বাচন ছিল এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লড়াই, যে ভবিষ্যৎ আমাদের সকলের প্রাপ্য।’ আরও বলেছেন, ‘যাঁরা বিশ্বাস করেন ইলিনয়েস সকলের জন্য ন্যায়সঙ্গত, সুবিচারপূর্ণ এবং স্বাগত জানানোর মতো জায়গা হওয়া উচিত, এই জয় তাঁদের সকলের।’
আইনসভায় যাওয়ার আগে ডুপেজ কাউন্টি বোর্ডের সদস্য হিসাবে কাজ করেছেন সাবা। পাশাপাশি দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর জেলায় তাঁর পরিবারের আদি বাড়ি। ভারতে জন্ম সাবার। প্রায় ২০ বছর আগে আমেরিকায় পাড়ি দেন তিনি। প্রচারের সময় নিজের অভিবাসী জীবনের কথা তুলে ধরে সাবা বলেছিলেন, ‘তার পর থেকে যে সমাজ আমাকে এবং আমার পরিবারকে ইলিনয়েসকে নিজেদের বাড়ি করে নিতে সাহায্য করেছে, সেই সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।’
রাজ্যের রাজধানী স্প্রিংফিল্ডে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা পৌঁছে দিতে চান তিনি। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবারগুলির দৈনন্দিন লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে সাবা বলেছিলেন, ‘কর্মজীবী পরিবারগুলি কী ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি। আমাদের সকলের সামনে থাকা সমস্যাগুলির সমাধান খুঁজতে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সাবা। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বন্যপ্রাণ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর জয়ের খবর সামনে আসার পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কের তরফে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এই জয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের কাছে ‘গর্বের মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: The Economic Times




