শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে আমরা বাস্তব সাফল্য অর্জন করতে পারব। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয়। সার্জিও গর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার জন্য বিদ্যমান সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রাধিকার এবং একসঙ্গে কাজ করলে আমরা বাস্তব সাফল্য অর্জন করতে পারব। গর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইটি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় আসেন সার্জিও গর। ঢাকা সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত। শুক্রবার তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।
সফরের শেষ শনিবার সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক
সংশোধন করেছে। বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রেরআন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আরও বলেন, বিনিয়োগের সুযোগ
অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ আধিকারীক বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংস্থার আধিকারীকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে। আমিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারির আরো গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে।