সামনেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপুজো। ভারতে উৎসব শুধু ক্যালেন্ডারের একটি বিশেষ দিন নয়। দেশের নানা প্রান্তে উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, খাবার, পোশাক, লোকসংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপন। তাই উৎসবের মরসুমে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে দেখা হয়ে যায় নতুন জায়গা এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। রইল দেশের পাঁচটি সেরা জায়গার সন্ধান।
১) কেরল—ওনামের আবহ
কেরলে ওনাম এলেই বদলে যায় রাজ্যের পরিবেশ। বাড়ি সাজানো থেকে শুরু করে ফুলের নকশা, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই উৎসবের ছোঁয়া থাকে। পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলির একটি অন্যতম ‘ওনাসাদ্য’। কলাপাতায় একসঙ্গে পরিবেশন করা হয় একাধিক নিরামিষ পদ। স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি এই সময় কেরলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও কাছ থেকে দেখা যায়।
২) নাগাল্যান্ড—হর্নবিল উৎসব
উত্তর-পূর্ব ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জানতে চাইলে নাগাল্যান্ডের হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন নাগা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, লোকনৃত্য, গান, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় খাবার এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। পর্যটকদের সামনে এক জায়গায় ফুটে ওঠে রাজ্যের বহু সাংস্কৃতিক রূপ।
৩) রাজস্থান—পুষ্করের মেলা
রাজস্থানের পুষ্কর ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি বিখ্যাত তার ঐতিহ্যবাহী পশুমেলার জন্য। পুষ্কর মেলায় উট সহ বিভিন্ন পশু নিয়ে বেচাকেনার পাশাপাশি চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজস্থানের লোকসংস্কৃতি, পোশাক ও স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করার জন্যও এই সময়টি বিশেষ।
৪) গুজরাত—কচ্ছের রান উৎসব
সাদা লবণের বিস্তীর্ণ প্রান্তর কচ্ছের রানকে এমনিতেই বিশেষ করে তুলেছে। তার সঙ্গে যখন উৎসবের আয়োজন যুক্ত হয়, তখন পর্যটকদের জন্য তৈরি হয় অন্যরকম অভিজ্ঞতা। লোকসংগীত, নৃত্য, স্থানীয় শিল্প ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে কচ্ছের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।
৫) কলকাতা—দুর্গাপুজোর শহর
উৎসবকেন্দ্রিক ভ্রমণের তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোও আলাদা জায়গা করে নেয়। পুজোর কয়েকটি দিন শহর যেন বিশাল এক প্রদর্শনীর চেহারা নেয়। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের শিল্পভাবনা, প্রতিমা, আলোকসজ্জা এবং মানুষের ভিড়ে বদলে যায় কলকাতার চেনা ছবি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাঙালির নানা খাবার ও পুজোর আড্ডা। ফলে কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে আসা মানে শুধু পুজো দেখা নয়, শহরের সংস্কৃতি ও উৎসবের জীবনকে কাছ থেকে অনুভব করা।
দেশের এই পাঁচ উৎসবের বৈশিষ্ট্য একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সাধারণ পর্যটনের বদলে কোনও একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সফর পরিকল্পনা করলে জায়গাটিকে আরও গভীরভাবে জানা এবং চেনা যাবে।
