নিউজ ডেস্ক: প্রেমের সংজ্ঞা যেখানে আজ সামাজিক মাধ্যমের দেখনদারি আর স্বার্থের সমীকরণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এক আশ্চর্য চিরন্তন ভালোবাসার নীরব পাঠ শেখাচ্ছেন ৯৫ বছরের এক বৃদ্ধা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টি ঝাপসা, কিন্তু হৃদয়ের টান আজও অমলিন। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছেও প্রতিদিন বিকেলে নিয়ম করে প্রয়াত স্বামীর সমাধির বেদিতে হাজির হন তিনি। হাতজোড় করে বসে থাকেন, ছুঁয়ে দেখেন স্মৃতির ইট-পাথর, আর আপন মনে বিড়বিড় করে বলে চলেন না-বলা হাজারো কথা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দৃশ্য মন ছুঁয়ে নিয়েছে নেটিজেনদের।
দেখুন: https://x.com/jamouriya/status/2102569269842325861?s=20
গ্রামের মানুষ ভালোবেসে তাঁকে ডাকেন ‘আম্মা’। যে বয়সে বিছানা ছেড়ে ওঠাই অনেকের পক্ষে অসম্ভব, সেই ৯৫ বছর বয়সেও আম্মার দৈনন্দিন রুটিনে কোনো ছেদ পড়েনি। গ্রামের এক প্রান্তে যেখানে তাঁর স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাঁর স্মৃতিতে একটি বাঁধানো বেদি তৈরি করা হয়েছে, ঠিক সেখানে রোজ ধীর পায়ে হেঁটে পৌঁছান আম্মা। সেখানে পৌঁছে বেদির মাটি পরম মমতায় ছুঁয়ে প্রণাম করেন তিনি। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বেদির পাশে বসে নীচু স্বরে গুণগুণিয়ে কী যেন বলতে থাকেন।
গ্রামের এক তরুণ এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে নেটদুনিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় যখন তাঁরা মাঠে খেলাধুলো করতেন, তখন বৃদ্ধার এমন কাণ্ড দেখে অনেকেই না বুঝে হাসাহাসি করতেন। ভাবতেন, নির্জন বেদির কাছে গিয়ে বৃদ্ধা একা একা কী করেন! কিন্তু বড় হওয়ার পর তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ভালোবাসা আসলে ঠিক কী জিনিস। মৃত্যু পার্থিব শরীরকে কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার আত্মিক বাঁধনকে যে এতটুকু স্পর্শ করতে পারে না, আম্মা যেন নিঃশব্দে তারই জীবন্ত প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ভালোবাসার এমন অকৃত্রিম রূপ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা। হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখে মন্তব্য করেছেন, নিঃস্বার্থ আত্মিক প্রেম আজকের দিনে রূপকথার মতো মনে হলেও, মাটির কাছাকাছি থাকা সাধারণ মানুষদের জীবনে তা আজও জীবন্ত।