প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তেমন ভালো না হলেও আফগানিস্তান বরাবর ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানেই থেকেছে। এমনকি কাবুলে তালিবান সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও সেই সুসম্পর্কে কোনওরূপ ‘কু’ আসেনি। আর এবার নয়াদিল্লির সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিল আফগানিস্তান। দেশের কৃষি খাতের আধুনিকীকরণে ভারতের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়ে সরাসরি আবেদন জানালেন আফগানিস্তানের কৃষি, সেচ ও পশুপালনমন্ত্রী মাওলভি আতাউল্লাহ ওমারি। তাঁর বক্তব্য, কৃষিনির্ভর আফগানিস্তানের উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শুক্রবার পিএইচডি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-আফগানিস্তান ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওমারি ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ককে ‘শতাব্দীপ্রাচীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতে এসে যে আন্তরিক অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তাতে তিনি নিজেকে নিজের দেশের মানুষের মধ্যেই রয়েছেন বলে অনুভব করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মধ্যে এক অসাধারণ মিল রয়েছে।”
আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। এই কারণেই ভারতের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আফগান মন্ত্রী আরও দাবি করেন, বর্তমানে তাঁর দেশের প্রশাসন একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করছে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যবসায়ীরাই আফগান অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাই ব্যবসায়ীদের আরও শক্তিশালী করতে এবং ভারত-আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর মন্ত্রক ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। আফগানিস্তানের কৃষি খাতে ভারতের প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ওমারির এই বার্তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।