নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খান। সূত্রের খবর, বৈঠকে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আচরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধার বিষয়গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আবু তাহের ও খলিলুরের অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের একপাক্ষিক ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট কোনও ধর্মকে যেন টার্গেট না করা হয়। যদি আইন হয়, তাহলে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হোক। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও তাঁরা চেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদ জেলায় এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত শুনানি করে নাম তোলার আর্জি জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। এই বিষয়ে আবু তাহের বলেন, “এসআইআর আমাদের বড় সমস্যা। শুধু মুর্শিদাবাদে ৫ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সেখানে স্থায়ী বসবাস করেন। জন্মসূত্রে তাঁরা বাংলার নাগরিক। বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। এই দাবিগুলি নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এই নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠক নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, রাজ্য শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও উপাসনালয়ে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ‘গা-জোয়ারি’-র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। রাজ্যে শুরু হওয়া এই মাইক-বিতর্কের আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে পড়ল রাজধানীতে।